আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে যৌথভাব ইরানে আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির রাজ্যনৈতিক ও সামরিক নেতা, বেসামরিক, নারী ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছে এবং এই সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। একই সঙ্গে দেশটির ৯৩ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে এক মাসে— ইরানে অন্তত ৩ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন।
সংস্থাটি বলেছে, নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৪৬৪ জন বেসামরিক নাগরিক, যাদের মধ্যে অন্তত ২৪০ জন নারী এবং ২১৭ জন শিশুও রয়েছে।
তবে গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার উপকূলে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবির ঘটনায় কমপক্ষে ১০৪ জন নিহত হয়েছে, এইচআরএএনএ-এর এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন কিনা তা স্পষ্ট নয়।
এছাড়াও বুধবার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৫০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলছে, তারা ইরানের বিভিন্ন স্থানে ১২ হাজারেরও বেশি বোমা বর্ষণ করেছে এবং শুধু তেহরানের ওপরেই ফেলেছে ৩৬০০টি বোমা।
অপরদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানাচ্ছে, তারা ইরানজুড়ে ৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলাগুলোর অনেকগুলোই লক্ষ্য করেছে পুলিশ স্টেশন, বাসিজ মিলিশিয়া ভবন, পুলিশ সদরদপ্তর, সামরিক ও পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, সেফ হাউস, আইআরজিসি সদস্যদের বাসভবন, সম্ভাব্য গোলাবারুদ মজুতস্থল এবং চেকপয়েন্টগুলোকে। এসব লক্ষ্যবস্তুর অনেকই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত।
এদিকে এক মাস ধরে চলা যুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে ৯৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
শনিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানো এই যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানে ৯৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে বিভিন্ন প্রদেশের ৭১ হাজার ৫৪৭টি বসতবাড়ি এবং ২০ হাজার ৭৭৯টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আরও বলছে, মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজধানী তেহরানে। শহরটির ৩১ হাজার ৫৬২টি আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়াও ইরানের বিভিন্ন ধরনের জরুরি সেবা খাত- হাসপাতাল, চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এখন পর্যন্ত ২৯৫টি স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা কেন্দ্র এবং ৬০০টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য রেকর্ড করেছে রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ।
ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেড ক্রিসেন্ট ও সরকারি জরুরি পরিষেবা পরিচালিত তিনটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারসহ ৪৮টি সচল জরুরি যানবাহন ও ৪৬টি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায়।
অন্যদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে টানা চার সপ্তাহ ধরে কার্যত ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে ইরান। শুধুমাত্র সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি
এমএইচআর