images

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধে নামার হুমকি উগান্ডা সেনাপ্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৫ এএম

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন উগান্ডার চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং ইসরায়েলকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হলে উগান্ডা সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া ধারাবাহিক পোস্টে জেনারেল কাইনেরুগাবা ইসরায়েলের প্রতি তার জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখনই শেষ হোক। বিশ্ব এই যুদ্ধ নিয়ে ক্লান্ত।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলকে পরাজিত বা ধ্বংস করার যেকোনো চেষ্টা উগান্ডাকে এই যুদ্ধে টেনে আনবে এবং তারা ‘ইসরায়েলের পাশে’ দাঁড়িয়ে লড়াই করবে।
এক পোস্টে তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন, ‘ইসরায়েলের টিকে থাকার অধিকার রয়েছে এবং দেশটির ওপর হামলা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।’

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিল ইরান, আছে যেসব শর্ত!

এক চাঞ্চল্যকর দাবিতে কাইনেরুগাবা বলেন, উগান্ডার সশস্ত্র বাহিনী চাইলে কোনো ধরনের বোমা হামলা ছাড়াই মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরান দখল করতে পারত। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সেই প্রস্তাব গৃহীত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘অবশ্যই তারা কখনও কোনো কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের কথা শোনে না। ইরানের যে সাধারণ মানুষ আপনাদের সমর্থন করতে পারে, বোমা মেরে তাদের কেন মারবেন?’

সাম্প্রতিক সময়ে উগান্ডা ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসেই কাইনেরুগাবা ঘোষণা করেছিলেন, উগান্ডার এনতেব্বে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরায়েলি কমান্ডো লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইয়োনাথান ‘ইয়োনি’ নেতানিয়াহুর একটি স্মারক ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ইয়োনাথান নেতানিয়াহু হলেন বর্তমান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ভাই। ১৯৭৬ সালে এনতেব্বে বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় জিম্মি উদ্ধার করতে গিয়ে এক কমান্ডো অভিযানে ওই স্থানেই তিনি নিহত হয়েছিলেন। ২০১৬ সালে ওই অভিযানের ৪০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু উগান্ডা সফর করেন এবং দেশটিকে ইসরায়েলের একটি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
উগান্ডার সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট