আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
ইরানি কর্মকর্তারা চুক্তির জন্য ‘মিনতি’ করছে, তবে প্রকাশ্যে তারা কেবল ‘প্রস্তাবটি বিবেচনা করছে’ দাবি করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে ‘সামরিকভাবে নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সুযোগ নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এই দাবি করেন ট্রাম্প। পোস্টে ইরানি আলোচকদের ‘অদ্ভুত’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই তাদের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত’।
ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানি আলোচকরা খুবই ভিন্ন এবং ‘অদ্ভুত’। তারা আমাদের কাছে একটি চুক্তির জন্য ‘মিনতি’ করছে, যা তাদের করা উচিত। কারণ তারা সামরিকভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এবং ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনাই নেই। অথচ তারা প্রকাশ্যে বলছে, তারা কেবল ‘আমাদের প্রস্তাবটি দেখছে’। ভুল!!!”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘‘খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই তাদের দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেওয়া উচিত, কারণ একবার তা হয়ে গেলে আর ফেরার কোনো উপায় থাকবে না এবং সেই পরিস্থিতি মোটেও সুখকর হবে না।”
ট্রাম্প মূলত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এরআগে ট্রাম্প দাবি করেন চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে ইরান একটি চুক্তির জন্য মরিয়া। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, ‘তার দেশ একটি মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, কিন্তু সংঘাত নিরসনে আলোচনায় বসার কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই’।
এদিকে বুধবার ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (তেহরানের কর্মকর্তারা) আলোচনা করছে এবং চুক্তি করতে মরিয়া। কিন্তু তারা বলতে ভয় পাচ্ছে। কারণ, তারা মনে করছে, জানাজানি হলে নিজেদের জনগণের হাতেই তারা মারা পড়বে। আবার তারা আমাদের হাতে মারা পড়ার ভয়েও তটস্থ।’
হোয়াইট হাউসও জোর দিয়ে বলেছে যে ইরানের সাথে শান্তি আলোচনা চলছে, যদিও তেহরান প্রকাশ্যে মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ববাজারে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী এই সংঘাতের অবসানের জন্য নিজস্ব নতুন শর্ত দিয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৪ মে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগেই ট্রাম্প এই যুদ্ধ শেষ করতে চান। ইরান সংঘাতের কারণেই শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের ওই বৈঠক পিছিয়ে যায়।
আর ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সীমিত বাজেটের বিমান বাহিনীর ব্যবহৃত ‘ডাম্ব’ বা সাধারণ বোমা ব্যবহারের আশ্রয় নিতে হতে পারে দেশটি। যুদ্ধের প্রথম ১৬ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ২৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১১ হাজার যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তানের শীর্ষ এক কূটনীতিক বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান পরস্পরের বিপরীতমুখী প্রস্তাব দিলেও দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এখনও চলছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর