images

আন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম, কমল স্বর্ণের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। বিপরীতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে স্বর্ণের দামে।  

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টা ০৮ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বা ৩ দশমিক ৫১ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারসের দাম ৩ দশমিক ৪ ডলার বা ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে (জিএমটি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৪১ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও সেশনের শুরুতে প্রায় ২ শতাংশ কমেছিল মূল্যবান ধাতুটির দাম। আর এপ্রিল ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুগুলোর দামেও পতন লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার স্পট রুপার দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৮ দশামিক ৩১ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়াও প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৮৪ দশমিক ৬১ ডলারে নেমে এসেছে। আর ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৭৫ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমেছে প্যালাডিয়াম।

অ্যাক্টিভট্রেডসের বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভাঞ্জেলিস্টা বলেছেন, ইরানের সংঘাত এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে মার্কিন ডলারের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। যার ফলে বিদেশী ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ ও রুপার মতো পণ্যগুলো আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট মুদ্রাস্ফীতিকে ক্রমাগত বাড়িয়ে দেবে এমন উদ্বেগের কারণে এই গতিশীলতা আরও জোরদার হচ্ছে, যা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে আরও কঠোর নীতি গ্রহণে বাধ্য করবে। এর ফলে মার্কিন ডলার ও বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি পাবে, যা স্বর্ণের মতো ধাতুটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, তেহরান যদি সামরিকভাবে পরাজয় মেনে না নেয়, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আরও কঠোর আঘাত হানবেন।

রয়টার্সকে জানিয়েছে, স্থল আক্রমণের জন্য বিকল্প হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার নৈশ সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন। 

এ বিষয়ে এমইউএফজি-র বিশ্লেষক সুজিন কিম বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েন ও ইরানে নতুন হামলাসহ চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং ইরানের কঠোর শর্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকারের সীমিত চলাচল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।’

সূত্র: রয়টার্স


এমএইচআর