আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে যৌথভাব ইরানে আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। এতে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সামরিক, বেসামরিক, নারী ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছে এবং এই সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এছাড়াও লেবানানে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল, সেখানেও বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পর্যন্ত ২৭ দিনে দেশগুলোর প্রকাশিত মৃত্যুর সংখ্যা তুলো ধরেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইরানের উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলী জাফরিয়ান আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯৩৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৪০ জন নারী এবং ২১২ জন শিশু।
জাফরিয়ান আরও বলেন, এছাড়া প্রায় ৪ হজার নারী ও ১ হাজার ৬২১ জন শিশুসহ ২৪ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ বুধবার জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে কমপক্ষে ৩ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন।
সংস্থাটি বলেছে, নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৪৬৪ জন বেসামরিক নাগরিক, যাদের মধ্যে অন্তত ২১৭ জন শিশুও রয়েছে। তবে গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার উপকূলে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবির ঘটনায় কমপক্ষে ১০৪ জন নিহত হয়েছে, তারা এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন কিনা তা স্পষ্ট নয়।
এছাড়াও বুধবার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৫০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২১ জন শিশুসহ ১ হাজার ৯৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আরও কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছে।
ইসরায়েলের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার তথ্য অনুসারে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের তিনজন সৈন্যও নিহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি, গত ২২ মার্চ লেবানন সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর ভুলবশত গুলিতে এক ইসরায়েলি কৃষক নিহত হন।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরাকের আকাশে একটি মার্কিন জ্বালানি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে আরও সাতজন নিহত হয়েছেন।
ইরাকি কর্তৃপক্ষের মতে, যুদ্ধ শুরু পর দেশটিতে অন্তত ৮৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন ইরান-সমর্থিত শিয়া পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সের সদস্য। অন্যদিকে, ২৪ মার্চ এরবিলে কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধাদের ওপর এক হামলায় ছয়জন নিহত হন। মার্কিন-সমর্থিত পেশমার্গা তাদের সামরিক সদর দফতরে এই হামলা চালানোর জন্য ইরানকে দায়ী করেছে।
এছাড়াও দেশটির বন্দর নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, ইরাকের একটি বন্দরের কাছে ট্যাংকারের ওপর হামলায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের মতে, ইরানি হামলায় দুই সেনা সদস্যসহ দশজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও নেপালের নাগরিকও রয়েছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২২ মার্চ কাতারের জলসীমায় ‘নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে’ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
নিহতদের মধ্যে চারজন ছিলেন কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, একজন ছিলেন কাতার-তুরস্ক যৌথ বাহিনীর তুর্কি সেনা এবং দুজন ছিলেন তুরস্কের বৃহৎ প্রতিরক্ষা সংস্থা আসেলসানের প্রযুক্তিবিদ।
কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইরানের হামলায় শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। আর দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের হামলায় কর্তব্যরত অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা এবং দুই সেনা সদস্যও নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চার ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সুয়েইদায় একটি ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে চারজন নিহত হয়েছেন।
গত ১৩ মার্চ ওমানের সোহর প্রদেশের একটি শিল্পাঞ্চলে ইরানি ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এটি ছিল দেশটির অভ্যন্তরে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা আলোচনা চলছিল। এর আগে মাস্কাট উপকূলের কাছে একটি ট্যাংকারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে একজন নিহত হন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর