আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিপুল পরিমাণ অর্থ’ সমমূল্যের একটি উপহার দিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) গতকাল আশ্চর্যজনক কিছু একটা করেছে। তারা আমাদের একটি উপহার দিয়েছে এবং সেই উপহারটি আজ এসে পৌঁছেছে। এটি একটি বিশাল উপহার যার মূল্য অনেক বেশি। আর উপহারটা কী, তা আমি আপনাদের বলব না, তবে পুরস্কারটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
আরও বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প স্বীকার করেন, উপহারটি পারমাণবিক ছিল না, বরং ‘তেল ও গ্যাস সম্পর্কিত’। কিন্তু এ বিষয়ে ব্যাখ্যায় আর কিছু বলেননি।
মূলত, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, উপহারটি হরমুজ প্রণালীর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, যেটিকে খোলা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে হিমশিম খেতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা খুব ভালো একটা কাজ করেছে। এর মাধ্যমে আমি বুঝতে পারলাম যে, আমরা সঠিক মানুষদের সাথেই কাজ করছি।’
এরআগেও ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ‘একটি চুক্তিতে আসতে চায়’ এবং তার দল একজন ইরানি নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছে।
মঙ্গলবারও ট্রাম্প তার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তিনি মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যুদ্ধ এত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হতাশ হয়েছেন।
তিনি বললেন, ‘পিট চায়নি যে বিষয়টির নিষ্পত্তি হোক’, কিন্তু বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে ট্রাম্পের উপহার পাওয়ার দাবির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও এখনো পর্যন্ত কোনো ধরণের আলোচনা হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে তেহরান।
ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ এক্স-এ পোস্ট করেছেন: ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।’
তবে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ১৫-দফা শান্তি পরিকল্পনা পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ইসলামাবাদ উভয়পক্ষ রাজি হলে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর