images

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের কথিত ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনায় কী আছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে ১৫-দফা শান্তি পরিকল্পনা পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।  

ইসরায়েলি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ১৫-দফা শান্তি পরিকল্পনার বিভিন্ন শর্তের খবর প্রকাশিত হচ্ছে।

এর মধ্যে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই পরিকল্পনায় নিচের দাবিগুলো উল্লেখ করা রয়েছে -

  • ইরানকে তার তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা- নাতানজ, ইসফাহান এবং ফোরদোর পারমাণবিক স্থাপনাগুলো অব্যবহৃত রাখতে হবে এবং ধ্বংস করে ফেলতে হবে

  • ইরানের সকল কর্মকাণ্ডের ওপর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ'র নিবিড় পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে

  • ইরান এ অঞ্চলে প্রক্সি বা সশস্ত্র সহযোগী গোষ্ঠীর ব্যবহার পরিত্যাগ করবে এবং তাদের অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করবে

  • বর্তমানে অর্জন করা পারমাণবিক সক্ষমতাগুলো নষ্ট করে ফেলতে হবে

  • কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে

  • ইরানের মাটিতে কোনো পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধ করা যাবে না

  • সমস্ত সমৃদ্ধকৃত উপাদান আইএইএ'র কাছে হস্তান্তর করতে হবে

  • হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে এবং এটি একটি 'মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল' হিসেবে গণ্য হবে

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বিষয়ে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তবে সেগুলোর সংখ্যা ও পাল্লা সীমিত থাকবে এবং তা শুধুমাত্র আত্মরক্ষার কাজে ব্যবহৃত হবে

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এসব শর্তের বিপরীতে ইরান যা পাবে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে, তা হলো -

  • বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বুশেহর শহরে একটি বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্প উন্নয়নে মার্কিন সহায়তা
  • দেশটির ওপর থাকা সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
  • নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি বাতিল

এছাড়া আলোচনা চলাকালে এক মাসব্যাপী সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানে পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ইসলামাবাদ উভয়পক্ষ রাজি হলে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে। 

যদিও ইরানের দায়িত্বশীল কেউ এখনো এ খবর নিশ্চিত করেননি এবং হোয়াইট হাউস থেকেও এ নিয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

সূত্র: বিবিসি

এমএইচআর