আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
ইরান মঙ্গলবার ইসরায়েলে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধে ‘খুবই ভালো এবং ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করার মাত্র একদিন পরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইসরায়েলের বৃহত্তম শহর তেলআবিবে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। শহরের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে বড় ধরনের গর্ত তৈরি হয়েছে। তবে এটি সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত নাকি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের কারণে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সোমবার তারা তেহরানে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা দপ্তর ও কমান্ড সেন্টারসহ ৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবেই ইরান মঙ্গলবার পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ইসরায়েল যদি লেবানন ও ফিলিস্তিনের বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও কঠোর করা হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা জায়নবাদী সরকারের অপরাধী সেনাবাহিনীকে এই মর্মে সতর্কবার্তা দিচ্ছি যে লেবানন ও ইসরায়েলের নিরীহ বেসমারিকদের ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। যদি তারা আমাদের সতর্কবার্তায় কর্ণপাত না করে, তাহলে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আমরা আরও কঠোর হামলা শুরু করব।’
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে তার শান্তি আলোচনা চলছে এবং সংঘাত নিরসনে অগ্রগতি হয়েছে। তিনি হরমুজ প্রণালীতে যৌথ নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও মন্তব্য করেন।
তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি শিশুর খেলনা স্টিয়ারিং হুইলের ছবি পোস্ট করে ট্রাম্পের প্রস্তাবকে বিদ্রূপ করেছে।
ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে ‘ফেক নিউজ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি এবং ট্রাম্প বাজার ও চলমান সংকটকে প্রভাবিত করতেই এমন তথ্য দিচ্ছেন।
উত্তেজনার মধ্যেও পাকিস্তান, মিশর ও উপসাগরীয় দেশগুলো মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রয়টার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, এ সপ্তাহেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সরাসরি শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এদিকে ট্রাম্পের আলোচনার দাবির পর তেলের দাম সাময়িকভাবে কমলেও মঙ্গলবার নতুন করে উত্তেজনার খবরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পুনরায় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বর্তমান পরিস্থিতিকে জ্বালানি সরবরাহের ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে বড় বিঘ্ন হিসেবে অভিহিত করেছে।
সূত্র: রয়টার্স