আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে ভারতীয় রুপি। সাম্প্রতিক লেনদেনে ডলারপ্রতি রুপির মান ৯৪-এর ঘর স্পর্শ করেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে ভারতীয় মুদ্রাটির সর্বনিম্ন পর্যায়। মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রুপির ওপর এই প্রবল চাপের পেছনে প্রধান পাঁচটি কারণ চিহ্নিত করেছেন তারা।
ভারত আমদানিকৃত তেলের ওপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, তেলের দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে তা সরাসরি মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে রুপির মান দুর্বল হয়ে পড়ে।
ভারতের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে আসে। এই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির কারণে ভারত বিশ্বজুড়ে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হতে পারে।
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে ভারতীয় শেয়ার বাজার ও বন্ড মার্কেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডলার তুলে নিচ্ছে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা। বাজার থেকে ডলারের এই বহির্গমন রুপির ওপর সরাসরি বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার দীর্ঘদিন চড়া রাখার আভাস দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে ডলার শক্তিশালী হচ্ছে। এর ফলে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রার আকর্ষণ কমে যাচ্ছে, যা রুপির পতনকে ত্বরান্বিত করছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি কৃষি খাতের ওপর প্রভাব ফেলছে। কারণ ভারতের কৃষি খাত সারের মতো পেট্রোকেমিক্যাল উপকরণের ওপর নির্ভরশীল, যা তেলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতির সাথে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে সরবরাহ চেইনের এই বিশৃঙ্খলা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
রুপির এই পতনের ফলে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশটির সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। বিশেষ করে জ্বালানি তেল, খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এ ছাড়া বিদেশে ভ্রমণ এবং পড়াশোনার খরচও বৃদ্ধি পাবে। তবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে রুপিতে রূপান্তরের মান কিছুটা বেশি পাওয়া যাবে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে রুপির ওপর এই প্রবল চাপ বজায় থাকতে পারে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে ডলারপ্রতি রুপির মান ১০০-এর মাইলফলক স্পর্শ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন।
সূত্র: গালফ নিউজ
এমএইচআর