আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৩২ এএম
নিজেদের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ‘বিবেক বিক্রি’ করেছেন বিচারকেরা। জেলে বসে এমনই অভিযোগ করলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
ঈদে নিজের ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ছেলেকে জানান, পাকিস্তানের আদালত থেকে তিনি এবং তার স্ত্রী ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। ইমরানের সেই বক্তব্য এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের অগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে গ্রেফতার হন ইমরান। এখন তিনি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে রয়েছেন। সেখানে বসেই পুত্র কাসিম খানের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
কাসিম জানান, ইমরান নিজের বক্তব্য সবার সামনে তুলে ধরতে বলেছেন। তাকে উদ্ধৃত করে কাসিম এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, এই দেশের (পাকিস্তান) বিচারকদের লজ্জা পাওয়া উচিত।
বার বার আমরা বিচারবিভাগের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু নিজের সুবিধার জন্য তারা বিবেক বিক্রি করে দিয়েছেন। সততা বিক্রি করে দিয়েছেন।
নাম না-করে পাকিস্তানের সামরিক বিভাগকেও কটাক্ষ করেছেন ইমরান। তার ছেলে সমাজমাধ্যমে তাকে (ইমরান খান) উদ্ধৃত করে লেখেন, ‘ওরা জানে আমাকে ভাঙতে পারবে না। তাই আমার স্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছে। আমাকে ব্ল্যাকমেল করার জন্য ওরা বুশরা বিবির (ইমরানের তৃতীয় স্ত্রী) সঙ্গে কী ভাবে এ রকম অমানবিক আচরণ করছে? ২৪ ঘণ্টা তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে কাটান। সপ্তাহে মাত্র ৩০ মিনিট আমার সঙ্গে থাকেন।
তিনি জানান, নারীদের সঙ্গে এই আচরণ ‘ইসলাম-বিরোধী’। বিচারকদের নিজেদের এই আচরণে লজ্জিত হওয়া উচিত।
২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি ইমরান এবং তার স্ত্রী বুশরাকে দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে পাকিস্তানের আদালত। দীর্ঘ দিন পরে তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন তার দুই পুত্র সোলেমান এবং কাসিম।
ইমরানের প্রথম স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে তারা লন্ডনে থাকেন। ইমরান খানের দল তেহরিক-ই- ইনসাফের দাবি, শাহবাজ শরিফ সরকার পরিবারের সঙ্গে ইমরানকে কথা বলতে দেন না।
আইনজীবীর সঙ্গেও কথা বলতে দেন না। তার দুই পুত্রের অভিযোগ, বাবার সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে যেতে চান তারা। কিন্তু পাকিস্তান সরকার তাদের ভিসা দিতে অস্বীকার করেছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রী আত্তা তারার জানিয়েছেন, ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড ফর ওভারসিজ পাকিস্তানিস (এনআইসিওপি) ব্যবহার করে ইমরানের দুই পুত্র তার সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে আসতে পারেন।
জেমিমা তা করতে অস্বীকার করেছেন। তার অভিযোগ, তা করলে পাকিস্তানে গিয়ে তার দুই পুত্রের ব্রিটিশ রক্ষাকবচ থাকবে না। আর সেটাই চাইছে পাকিস্তান।
-এমএমএস