আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ইতি টানার মতো কোনো চুক্তি হলে তেলের দাম হুড়মুড় করে পড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (২৩ মার্চ) এয়ার ফোর্স ওয়ানের পাশে দাঁড়িয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, (ইরানের সাথে) আলোচনা 'খুবই কার্যকর' হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় তার উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার যুক্ত ছিলেন।
আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেখা যাক আলোচনা কোন দিকে যায়। আমাদের মধ্যে ঐকমত্যের বড় জায়গা রয়েছে, এবং আমি বলব যে প্রায় সব বিষয়েই আমরা একমত হয়েছি।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলর সাথে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হুমকির কারণে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে আছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের একটি চুক্তি হওয়ার বেশ ভালো সম্ভাবনা আছে... এতে তেলের দাম আরও কমে যাবে। তবে কোনো কিছুর নিশ্চয়তা নেই; আমি কোনো কিছুর নিশ্চয়তা দিচ্ছি না’।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য দুই দেশ ১৫টি দফা নিয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র বর্জন ‘এক, দুই ও তিন নম্বর’ দফা, বলেন ট্রাম্প।
ইরানের ‘শাসনব্যবস্থার বড় পরিবর্তন’ দেখতে চান উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের 'একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির' সাথে কথা বলছে, তবে তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নন।
তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা জানি না তিনি (সর্বোচ্চ নেতা) বেঁচে আছেন কী-না।"
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বন্ধে তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদক বারাক রাভিদ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, দুই পক্ষের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করা এবং সমস্ত অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে আলোচনার বিষয়বস্তু, অংশগ্রহণকারীরা বা আলোচনাটি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সে সম্পর্কিত প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউস।
এরআগে এরআগে সোমবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মধ্যকার শত্রুতা পুরোপুরি ও সার্বিক সমাধানের ব্যাপারে কথা অনেক দূর এগিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তেহরানের সঙ্গে এই গভীর, বিশদ এবং গঠনমূলক আলোচনায় তাদের সুর ও মেজাজের উপর ভিত্তি করে, যা সপ্তাহজুড়ে চলবে, আমি যুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছি।’
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ব্যাপক দরপতন হয়েছে।
আলজাজিরা প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২৩ মার্চ) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা ৮ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বা ১৭ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে নেমে আসে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারসের দাম ১৩ ডলার বা ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ হয়নি বলে দাবি করেছে ইরান।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে যে সমঝোতার আলোচনার কথা বলেছেন, তা সঠিক নয়।’
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘ইরান তার অবস্থানে অটল রয়েছে, আর তা হলো যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের লক্ষ্যসমূহ অর্জিত হওয়ার আগে যেকোনো ধরনের আলোচনা প্রত্যাখ্যান করা।’
এছাড়াও ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয়নি, এমনকি কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও নয়’।
তিনি আরও দাবি করেন, “ইরান উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে—এমন সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই ট্রাম্প ‘পিছু হটেছেন’।” তবে আলোচনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য আসেনি।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স
এমএইচআর