images

আন্তর্জাতিক

ভারতে জ্বালানি পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক’, স্বীকার করলেন মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ ভারতের সামনে যথেষ্ট কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে এবং দেশটিতে ইতোমধ্যেই গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকট উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে গেছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সোমবার (২৩ মার্চ) ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ- লোকসভার অধিবেশনে মোদি বলেন, ‘চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্য এশিয়ার পরিস্থিতি ভয়াবহ। এ সংকট তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এই যুদ্ধ সারা বিশ্বের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে ভারতের সামনে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এ চ্যালেঞ্জগুলো অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত। এছাড়াও মানবিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে।’

হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচলে বাধার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, ‘বর্তমানে ৫৩ লাখ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম ভারতে মজুত রয়েছে। আরও ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন মজুতের লক্ষ্য মাত্রা রেখেছে সরকার। ৪১টি দেশের সঙ্গে আমদানি নেটওয়ার্ক খোলা রেখেছে ভারত, যার মাধ্যমে জ্বালানি সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।’

মোদি আরও বলেন, ‘এলপিজি সমস্যার মোকাবিলা করতে দেশীয় উৎপাদন বাড়াচ্ছে ভারত। দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি নির্ভর। তাই অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকার গৃহস্থালি গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে, একই সঙ্গে পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ যাতে সারা দেশে স্বাভাবিক থাকে, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।’ 

তিনি বলেন, ‘আমি পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে দুই দফা আলোচনা করেছি। ওই দেশগুলোর নেতারা ভারতীয়দের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত, কিছু ভারতীয় মারা গেছেন।’

মোদি আরও জানান, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তিন লক্ষ ৭৫ হাজার ভারতীয় নিরাপদে দেশে ফিরে এসেছেন। ইরান থেকে এক হাজার ভারতীয় নিরাপদে ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৭০০ জনেরও বেশি মেডিকেল শিক্ষার্থী।’

প্রসঙ্গত, চলমান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার অনান্য দেশের মতো ভারতে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে এলপিজি গ্যাসের ঘাটতি চরমে পৌঁছেছে। রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। সাধারণ মানুষ গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব পড়েছে। দেশটির প্রধান শহরগুলোতে তারকা মানের হোটেল- রেস্তোরাঁগুলো বিপাকে পড়েছে।   

সূত্র: বিবিসি

এমএইচআর