images

আন্তর্জাতিক

সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় আরব দেশগুলোর নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

সিরিয়ার সেনা ঘাঁটিতে ইসরায়েলের হামলাকে ‘আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যান্য আরব দেশ ও তুরস্কের সঙ্গে একযোগে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপ করার আহ্বানও জানিয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) এ নিন্দা জানানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এর আগে শুক্রবার (২০ মার্চ) ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা দক্ষিণ সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে, যা তাদের ভাষ্যমতে সুইদা প্রদেশে দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে করা হয়েছে।

ইসরায়েল গত বছর একটি প্রাণঘাতী সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় সিরিয়ায় বোমা হামলা চালিয়েছিল, তখন তারা বলেছিল, তারা সংখ্যালঘু গোষ্ঠীটিকে রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ‘প্রকাশ্য ইসরায়েলি আগ্রাসন’ এর নিন্দা জানায়। এই আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন ও সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

সৌদির এই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে’ পদক্ষেপ নিতে হবে।

এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের হামলাকে ‘একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে আখ্যায়িত  করে। পাশাপাশি তা বন্ধ করার আহ্বানও জানায়।

মিশর, জর্ডান, কাতার ও কুয়েতও ইসরায়েলি হামলার নিন্দায় যোগ দেয় এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও এমন হামলা প্রতিরোধে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার ওপর জোর দেয়।

কায়রোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ‘নিজেদের দায়িত্ব পালন করে ইসরায়েলের এসব চলমান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও হামলা বন্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধ উত্তাল হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই ইসরায়েল এই হামলাগুলো চালায়। 

এই আক্রমণের ফলে সৃষ্ট সংঘাত অঞ্চলটির বেশিরভাগ অংশকে গ্রাস করেছে। তবে সিরিয়া এখনো সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েনি। 

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) গত বৃহস্পতিবার জানায়, সুইদা প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত চারজন দ্রুজ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এরপর ইসরাইলি গোলাবর্ষণে সুইদা শহরের আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে বলে পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি জানায়।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর, ইসরায়েল গোলান মালভূমিতে ইসরাইল কর্তৃক সংযুক্ত জাতিসংঘ-নিয়ন্ত্রিত অসামরিকীকৃত অঞ্চলে তাদের বাহিনী মোতায়েন করে এবং সিরিয়ায় শত শত হামলা চালানোর পাশাপাশি নিয়মিত অনুপ্রবেশও চালিয়ে আসছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুক্রবার বলে, তারা ‘সিরিয়ায় দ্রুজদের ক্ষতি হতে দেবে না এবং তাদের সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।’

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের পদক্ষেপকে ‘সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার বিরুদ্ধে জঘন্য আক্রমণ’ বলে নিন্দা জানায় এবং ইসরায়েলের যুক্তিকে ‘দুর্বল অজুহাত ও মনগড়া কারণ’ বলে অভিহিত করে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা শুক্রবার জানান, তিনি ‘সিরিয়াকে যেকোনো ধরনের সংঘাত থেকে দূরে রাখার’ চেষ্টা করছেন এবং তার সরকার ‘সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে।’

এএইচ