আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬টি সামরিক বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যার মধ্যে ১০টি হলো- এমকিউ-৯ রিপার স্ট্রাইক ড্রোন (প্রতিটি ড্রোনের মূল্য আনুমানিক ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। আর বাকি ছয়টি যুদ্ধবিমান ও রিফুয়েলিং বিমান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমাবার্গ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সবচেয়ে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে- কুয়েতে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ বিমান ভূপাতিত করে কুয়েতি সেনাবাহিনী। এছাড়াও ইরাকে মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরার সময় একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান ধ্বংস হয়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় ট্যাংকার বিমানটির ছয়জন ক্রু সদস্যের সবাই নিহত হন।
অন্যদিকে সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে পার্ক করা অবস্থায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও পাঁচটি কেসি-১৩৫ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর একটি অত্যাধুনিক মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) একজন মুখপাত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং পাইলটের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে এক মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেবল চালকবিহীন রিপার ড্রোনগুলোকেই ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে অন্তত নয়টি ইরানের আকাশেই ধ্বংস হয়েছে। এছাড়াও জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি রিপার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ড্রোনগুলোকে ‘ক্ষয়যোগ্য’ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে — অর্থাৎ, এগুলোকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ওড়ানো হয়, কারণ এগুলোতে কোনো পাইলট থাকে না এবং চালকসহ বিমানের তুলনায় এগুলো প্রতিস্থাপন করা অনেক সস্তা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এসব বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছে, তারা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা করবে না।
ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকা সর্বশেষ বড় আকারের বিমান অভিযান, অর্থাৎ ২০১১ সালে লিবিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের সময় চার মাসে মাত্র তিনটি যুদ্ধ বিমানের ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে একটি ছিল মার্কিন নৌবাহিনীর ড্রোন। সে হিসাবে মাত্র ২০ দিনে ১৬টি বিমান হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
সূত্র: ব্লুমবার্গ, এনডিটিভি
এমএইচআর