images

আন্তর্জাতিক

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কাতারের গ্যাস স্থাপনা মেরামতে লাগবে ৫ বছর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে অন্তত দু’বার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ অচল হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুরোপুরি মেরামত করতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

কাতারের রাষ্ট্রীয় পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ আল-কাআবি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

তিনি জানান, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির প্রধান এলএনজি উৎপাদন ইউনিট এবং পার্ল গ্যাস-টু-লিকুইড স্থাপনা ইরানের হামলার শিকার হয়, যা এলএনজি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ কার্যত অচল হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোটি নির্মাণ করতে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল।

image

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে আল-কাআবি বলেছেন, ‘আমি স্বপ্নেও ভাবিনি যে কাতার এবং এই অঞ্চল এমন একটি আক্রমণের শিকার হবে, বিশেষ করে রমজান মাসে একটি ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশের কাছ থেকে এভাবে আমাদের ওপর হামলা হবে।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্ষয়ক্ষতির কারণে ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনে এলএনজি সরবরাহের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজার’ বা অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করতে হতে পারে কাতারএনার্জি।

আল-কাআবি বলেন, ‘আমি বলতে চাচ্ছি, এগুলো দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি, যার জন্য আমাদের ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা করতে হয়। আমরা আগেও ঘোষণা করেছি, কিন্তু সেটা ছিল স্বল্পমেয়াদী। এখন চুক্তির মেয়াদ যা-ই হোক না কেন, তা-ই করতে হবে।’

তিনি আরও জানান, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কাতার বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের রাজস্ব হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

এদিকে পারস্য উপসাগরীয় দেশটির এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্রে হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। তবে এই হামলার প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। 

ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো থেকেই পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সিংহভাগ সরবরাহ করে কাতার। ফলে এই তিন দেশের জন্য তাৎক্ষণিক জ্বালানি ঝুঁকি তৈরি করেছে এবং শিগগিরিই এসব দেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।  

জ্বালানি খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুসারে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তাদের এলএনজি আমদানির যথাক্রমে ৯৯ ও ৭০ শতাংশ কাতার থেকে আমদানি করে থাকে। আর বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল’-এর তথ্যানুযায়ী, ভারত তাদের এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি আসে কাতার থেকে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ উভয়েরই অভ্যন্তরীণ এলএনজি মজুদ সীমিত– যা বড়জোর এক থেকে দুই সপ্তাহ চলতে পারে। ফলে এই চলমান সরবরাহ সংকটের কারণে তারা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে এই দুই দেশেই বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহ হ্রাসের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। 


সূত্র: আলজাজিরা


এমএইচআর