আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ সংসদীয় নির্বাচনে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়া ও সহযোগী দলগুলো ৯৯.৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)-এর তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত পঞ্চদশ সর্বোচ্চ গণপরিষদের সদস্য নির্বাচনে কিম জং উনের সমর্থিত প্রার্থীরা প্রতিটি আসনেই জয়লাভ করেছেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯৯.৯৩ শতাংশ মানুষ কিমের দলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সামান্য বেশি- ৯৯.৯৭ শতাংশ ভোটের কথা জানিয়েছে এবং ভোটার উপস্থিতি ছিল ৯৯.৯৯ শতাংশ।
গণমাধ্যমের দাবি, নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে মাত্র ০.০০৩৭ শতাংশ ভোটার বিদেশে বা সমুদ্রে কর্মরত থাকার কারণে ভোট দিতে পারেননি এবং অতি ক্ষুদ্র সংখ্যক প্রায় ০.০০০০৩ শতাংশ ভোটার ভোটদানে বিরত ছিলেন।
মজার বিষয় হলো- ব্যালটে কোনো বিরোধী প্রার্থী ছিলেন না। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদেরকে অনুমোদিত প্রার্থীকে গ্রহণ বা বর্জন ( ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট) করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এর মানে বাকি ০.০৭ শতাংশ ভোট কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দল বা নেতার কাছে যায়নি। বরং এটি সেইসব ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা আনুষ্ঠানিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট দিয়েছিলেন।
কেসিএনএ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সংসদীয় নির্বাচনে ‘না’ ভোটের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে, যা ১৯৫৭ সালের পর থেকে প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয়নি।

উত্তর কোরিয়ার নির্বাচন আইন অনুযায়ী, শ্রমিক, কৃষক, বুদ্ধিজীবী, সামরিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিসহ মোট ৬৮৭ জন প্রতিনিধি সর্বোচ্চ গণপরিষদে নির্বাচিত হন। তবে, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় মাত্র একজন প্রার্থী রয়েছেন, যিনি কিমের নেতৃত্বাধীন শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক ইতিমধ্যেই অনুমোদিত। ভোটারদের সামনে একটি সহজ বিকল্প রয়েছে: হয় প্রার্থীকে অনুমোদন করা, অথবা প্রত্যাখ্যান করা।
প্রসঙ্গত, বাবা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর ২০১১ সালে কিম ক্ষমতায় আসেন এবং তখন থেকে তিনিই দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি। ২০১৯ সালে নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার জন্য সংবিধানে পরিবর্তন আনের কিম। এতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের পাশাপাশি দেশটির সরকার, সামরিক বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তার ‘একক’ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হয়।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর