images

আন্তর্জাতিক

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান ও বাসিজ কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) প্রধান আলী লারিজানি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ ফোর্সের’ কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিকে হত্যার দাবি করেছে  ইসরায়েল। 

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক বিবৃতিতে বলেন, গতকাল সোমবার রাতে পৃথক হামলায় ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা লারিজানি এবং বাসিজ কমান্ডার সোলেইমানিকে রাতারাতি নির্মূল করা হয়েছে। তাদের মৃত্যুর খবরটি তিনি এইমাত্র জানতে পেরেছেন।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তবে আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন নাকি আহত হয়েছেন সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।

একইসাথে বাসিজ কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিকে হত্যার কথাও দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

ইসরায়েলের এই দাবিগুলোর বিষয়ে ইরান এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম এবং মেহের নিউজ জানিয়েছে, ‘শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি শিগগিরই একটি বার্তা দেবেন। বার্তাটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে।’

প্রসঙ্গত, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আলী লারিজানি বর্তমানে দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর সরকারি কর্মকর্তা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর আলী লারিজানি দেশটির প্রধান সংকট ব্যবস্থাপক এবং ডি-ফ্যাক্টো (কার্যত) সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে আবির্ভূত হন।

লারিজানিকে একজন "বাস্তববাদী রক্ষণশীল" নেতা হিসেবে দেখা হয়, যিনি পশ্চিমাদের সাথে আলোচনা এবং দেশের কট্টরপন্থীদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারদর্শী। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং পারমাণবিক চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন।

ইসরায়েলের তাকে হত্যার দাবি নিশ্চিত হলে এটি হবে ইরানের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি, কারণ যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে তিনি দেশের প্রধান নীতি-নির্ধারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। 

অন্যদিকে  ইরানে বর্তমান শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যেকোনো সম্ভাব্য বিদ্রোহ দমনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে বাসিজ বাহিনী। ই কারণেই বাসিজসহ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে শুরু থেকেই লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আর সোলাইমানিকে হত্যার ফলে বাসিজ ফোর্সের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, বিবিসি

এমএইচআর