১৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
ইসরায়েলের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কি তবে নিজের তৈরি ‘নিরাপত্তা বলয়ে’ নিজেকেই আড়াল করছেন? গত কয়েক সপ্তাহে তার জনসমক্ষে অনুপস্থিতি এবং রেকর্ড করা ভিডিও বার্তার ওপর নির্ভরতা আন্তর্জাতিক মহলে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
অফিসিয়ালভাবে তাকে ‘সক্রিয়’ দাবি করা হলেও কেন একজন যুদ্ধকালীন নেতা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হচ্ছেন না? কেনই বা তার প্রতিটি বার্তা আসছে ‘গ্রিন স্ক্রিন’ বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ থেকে? আমাদের বিশ্লেষণে এই রহস্যময় আচরণের পেছনে ৪টি সম্ভাব্য কারণ সামনে এসেছে।
אומרים שאני מה? צפו >> pic.twitter.com/ijHPkM3ZHZ
— Benjamin Netanyahu - בנימין נתניהו (@netanyahu) March 15, 2026
নেতানিয়াহু সবসময় নিজেকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে গুঞ্জন রয়েছে যে, সাম্প্রতিক কোনো নিরাপত্তা সংকটে বা পূর্ববর্তী অস্ত্রোপচারের জটিলতায় তিনি হয়তো শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নেই। যদিও এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, যদি তার শারীরিক অবস্থায় কোনো নেতিবাচক পরিবর্তন আসে, তবে সেটি জনসমক্ষে আসা মানেই ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ মনোবলে বড় আঘাত। এই ‘শারীরিক সীমাবদ্ধতা’ আড়াল করতেই কি নিয়ন্ত্রিত ভিডিওর আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে?
বর্তমানে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জিম্মিদের মুক্তি দিতে না পারা এবং যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি যদি সরাসরি কোনো লাইভ অনুষ্ঠানে বা সংবাদ সম্মেলনে আসেন, তাকে বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকদের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে ‘নিরাপত্তা প্রোটোকল’ এখন তার জন্য একটি রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক সময় ‘স্ট্র্যাটেজিক ডিসেপশন’ বা কৌশলগত বিভ্রান্তি ছড়ায়। নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখে প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে এক ধরনের তথ্য-বিভ্রাটের মধ্যে রাখা হতে পারে। শত্রুপক্ষ যখন তার সামর্থ্য নিয়ে জল্পনা করছে, তখন তিনি হয়তো আড়ালে থেকে কোনো বড় সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার ওপর ঝুঁকির মাত্রা সর্বোচ্চ। এ কারণে তিনি সম্ভবত অত্যন্ত সুরক্ষিত কোনো আন্ডারগ্রাউন্ড কমান্ড সেন্টার থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সরাসরি উপস্থিতি মানেই অবস্থান শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই কঠোর নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার কারণেই কি তিনি বাইরের পৃথিবীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ সীমিত করেছেন?
সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু ভিডিওতে তার কণ্ঠস্বর বা অঙ্গভঙ্গি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এমনকি কিছু এআই বিশ্লেষণ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে সংশয় বাড়িয়ে দিয়েছে। একজন নির্বাচিত নেতার দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে না আসা এবং শুধুমাত্র প্রযুক্তিনির্ভর বার্তা দিয়ে এই ধোঁয়াশা পুরোপুরি কাটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সশরীরে গণমাধ্যমের সামনে না আসা পর্যন্ত এই রহস্য কাটার সম্ভাবনা কম। এটি কি কেবলই নিরাপত্তার প্রয়োজনে নেওয়া কঠোর সতর্কতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বাস্তবতা—তা সময়ই বলে দেবে।
দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনটি চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রস্তুত; চূড়ান্ত সত্যতা নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য ও ইসরায়েলের সরকারি সূত্র প্রয়োজন।
এমএইচআর