আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ মার্চ ২০২৬, ০২:২১ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কি বেঁচে আছেন? এই প্রশ্ন যখন বার বার উঠছে, ঠিক তখনই ইরানের বেশ কয়েকটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন।
তবে তিনি আহত। চিকিৎসা চলছে রাশিয়ায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দফতরে ইসরায়েল এবং আমেরিকা যে একযোগে হামলা চালিয়েছিল, সেই হামলায় নিহত হয়েছিলেন খামেনিসহ সেই দেশের বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাও।
কিন্তু ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, খামেনি এবং ইরানের কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যু হলেও বরাতের জোরে বেঁচে গিয়েছেন খামেনির-পুত্র মোজতবা খামেনি।
‘দ্য টেলিগ্রাফ’ একটি অডিওর কথা উল্লেখ করেছে। ফাঁস হওয়া সেই অডিওতে হামলা সম্পর্কে ভয়ঙ্কর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় ইরানের সেনাপ্রধানের শরীরের মাংসপিণ্ড পুড়ে যায়। খামেনির জামাইয়ের মাথা দু’টুকরো হয়ে গিয়েছিল।
খামেনি প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ দাবি করেছে, ফাঁস হওয়া ওই অডিওটি খামেনির দফতরের এক কর্মকর্তা মাজাহের হেসেইনির। তেহরানে গত ১২ মার্চে হওয়া এক বৈঠকের সেই অডিও ঘিরে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ খামেনির দফতরে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েল এবং আমেরিকা। হামলার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই মোজতবা দফতর থেকে বেরিয়েছিলেন। তিনি ওই চত্বরেই ছিলেন। দফতরে ঢোকার আগেই ইসরায়েল ও আমেরিকা হামলা চালায়।
সেই হামলায় খামেনি, তার জামাই এবং প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যু হলেও বেঁচে যান মোজতবা। তবে তার পা জখম হয়। সেই হামলায় মোজতবার স্ত্রী এবং পুত্রেরও মৃত্যু হয়েছে।
তবে আয়োতুল্লাহ খামেনির আরেক পুত্র মোস্তাফা খামেনি এবং তার স্ত্রীও এই হামলায় বেঁচে গিয়েছেন। হোসেইনির দাবি, হামলা এতটাই জোরালো ছিল যে, সেনাপ্রধান মাংসের দলায় পরিণত হন। তাকে চেনার উপায় ছিল না।
২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার পরই ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মোজতবাকে নতুন নেতা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু মোজতবা কেন প্রকাশ্যে আসছেন না, তা নিয়ে নানা মহলে জল্পনা শুরু হয়ে যায়।
তার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই জল্পনা সম্প্রতি উস্কে দিয়ে দাবি করেছেন, শুনেছি তার মৃত্যু হয়েছে। যদিও ইরানের তরফে বার বার সেই তথ্যকে খণ্ডন করা হচ্ছে।
তবে মোজতবার চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেনি রাশিয়া। রুশ সরকারি সংবাদসংস্থা তাসকে প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব দিমির পেসকভ বলেন, এই ধরনের রিপোর্ট নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করব না।
-এমএমএস