images

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি শুধু ‘আমাদের শত্রুদের জন্য’ বন্ধ: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি শুধু ইরানের শত্রুদের জন্য বন্ধ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

তিনি বলেছেন, ‘১৫ দিনের যুদ্ধের পর, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অন্যদের আশ্রয় নিয়েছে, এমকি গতকাল পর্যন্ত যাদেরকে তারা শত্রু মনে করত তাদের (চীন) দিকেই ঝুঁকেছে।’

আরাঘচি বলেন, ‘তারা (আমেরিকানরা) অন্যান্য দেশগুলোকে তাদের সাহায্য করতে বলছে, যাতে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকে... আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি খোলা। এটি কেবল আমাদের শত্রুদের জন্য, যারা আমাদের দেশের বিরুদ্ধে অন্যায় আগ্রাসন চালিয়েছে এবং তাদের মিত্রদের জন্য এটি বন্ধ রয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবিতে যুদ্ধ শুরু করেছিল। তবে যুদ্ধ এমনভাবে শেষ হতে হবে যাতে এটি আবার না ঘটে।’

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিরাপদে সচল রাখতে মিত্র দেশগুলোকে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই ডাকে খুব একটা সাড়া মেলেনি। একের পর এক দেশ তার এই আহ্বান প্রত্যখ্যান করছে। ফ্রান্স ও জাপানের পর এবার সেই তালিকায় যোগ দিয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং গ্রিস।

শনিবার ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেন, ইরানের অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে কাজ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য এই জোটে যোগ দেবে।

তবে ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং গ্রিস মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ট্রাম্পর প্রস্তাব পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রাণরেখা হিসেবে বিবেচিত। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি, যার এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান। ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই সরু পথ দিয়েই চলাচল করে।

বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।

প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করে; ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও প্রতি ছয় মিনিট পরপর জাহাজ চলতে দেখা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে দাম হু হু করে বেড়ে গেছে।


সূত্র: আলজাজিরা


এমএইচআর