images

আন্তর্জাতিক

দুবাইয়ে ভয়াবহ হামলার কারণ জানাল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:২৬ এএম

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি জ্বালানি ট্যাংকে ইরানের ভয়বহ ড্রোন হামলায় গোটা এলাকায় আগুন ধরে গেছে।

এ হামলার পর সোমবার (১৬ মার্চ) দুবাই কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে। 

দুবাইয়ের গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় একটি জ্বালানি ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে, দুবাই বিমানবন্দরের কাছে এ ভয়াবহ হামলার কারণ জানিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, ইরানের তেলের প্রধান ঘাঁটি খারগ দ্বীপে হামলা চালানোর জন্য আমেরিকা ব্যবহার করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দু’টি ঘাঁটি। তার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটিতে হামলার ঝাঁজ বাড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। 

রোববার (১৫ মার্চ) দুবাইয়ে একাধিক হামলা চালিয়েছে ইরান। তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে দুবাই মেরিনা এবং আল সুফৌ সংলগ্ন এলাকায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা তেল টার্মিনালেও রোববার হামলা চালিয়েছে ইরান। সেখানে তেল তোলার কাজ থমকে গিয়েছে। ফুজাইরা কেন্দ্রে হামলার কারণে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পুরু কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গিয়েছে। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি, এর ফলে জর্ডানের এক নাগরিক আহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত আর কোনো হতাহতের খবর নেই।

শনিবারও দুবাইয়ে হামলা হয়। শহরের মধ্যভাগ থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় একাধিক বার। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিশানা করে ১৮০০-র বেশি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। 

এর মধ্যে রয়েছে ১৬০০টি ড্রোন, ২৯৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। পশ্চিম এশিয়ার আর কোনো দেশে এত হামলা করা হয়নি। ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি হিসাবে মোট ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, খারগ দ্বীপে আক্রমণের জন্য আমেরিকা ব্যবহার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমার একটি ঘাঁটি। 

এ ছাড়াও একটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে খারগে বোমা ফেলা হয় এবং সেটি দুবাই বিমানবন্দরের খুব কাছে অবস্থিত। আমেরিকার এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ বলে উল্লেখ করেছেন আরাঘচি। 

ইরানের লাগাতার হামলার মুখেও আঞ্চলিক শান্তির বার্তা দিয়েছে আমিরাত সরকার। সেই দেশের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে এখনও যুক্তি দিয়ে তারা পরিস্থিতি বিবেচনা করছেন এবং আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থে ধৈর্য ধরে আছেন।

কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও রোববার কয়েকটি হামলা হয়েছে। এ ছাড়া, বাহরাইন, ওমান এবং সৌদি আরবে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে সৌদি যে ১০টি ড্রোন প্রতিহত করেছে বলে দাবি করছে, ইরান সেগুলির দায় স্বীকার করেনি।

-এমএমএস