images

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিতে পরপর ৩টি কার্গো জাহাজে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১১ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালিতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। অজ্ঞাত বস্তুর (প্রজেক্টাইল) আঘাতে তিন জাহাজই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা— ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএমটিও) বলেছে, বুধবার হরমুজ প্রণালিতে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ওমান উপকূলের প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ হামলার শিকার হয়েছে। এতে জাহাজটি আগুন ধরে যায়। 

থাইল্যান্ডের পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে অজানা প্রজেক্টাইলের আঘাতে আগুলা লাগার পর থাই জাহাজ ‘মায়ুরি নারি’ থেকে ২০ জন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে তিনজন ক্রু এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

মন্ত্রণালয় বলছে, ক্রুরা জাহাজটি একটি লাইফবোটে আশ্রয় নেন, পরে ওমানি নৌবাহিনী তাদের উদ্ধার করেছিল। উদ্ধার হওয়া ক্রুরা জানিয়েছে, জাহাজের পিছনে একটি বিস্ফোরণ ঘটে এবং ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়, সেখানে নিখোঁজ তিনজন ক্রু সদস্য কাজ করছিলেন।

image

এর আগে ইউকেএমটিও জানিয়েছিল, জাপানের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর ২৫ নটিক্যাল মাইল (৪৬ কিলোমিটার) উত্তর-পশ্চিমে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

দু’টি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, জাহাজটির নাবিকরা সবাই নিরাপদ আছেন এবং জাহাজটি নিরাপদ নোঙরস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড টেক বলেছে, দুবাইয়ের প্রায় ৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘স্টার গুইনেথে’ নামে আরেকটি বাল্ক ক্যারিয়ার আঘাত হানে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল। এতে জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে নাবিকরা নিরাপদ আছেন।

ইউকেএমটিও বলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে আরব উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিসহ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আজকের তিনটি নিয়ে মোট ১৭টি জাহাজে হামলার খবর পেয়েছে তারা।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রাণরেখা হিসেবে বিবেচিত। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি, যার এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান। ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই সরু পথ দিয়েই চলাচল করে।

image

বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।

প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করে; ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও প্রতি ছয় মিনিট পরপর জাহাজ চলতে দেখা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে দাম হু হু করে বেড়ে গেছে।


সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি

এমএইচআর