Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র নয়, যুদ্ধ কবে শেষ হবে ঠিক করবে ইরান: আইআরজিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম

চলমান যুদ্ধে শেষ করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নয়, তা সম্পূর্ণভাবে ইরানের হাতে বলে জানিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

ট্রাম্পের যুদ্ধের সময়সীমা সম্পর্কিত মন্তব্যের জবাবে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়িনী বলেন, যুদ্ধে সমাপ্তি ঠিক করার ক্ষমতা তাদের হাতে, ওয়াশিংটনের নয়।

ট্রাম্পের মন্তব্য ‘মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভুয়া সামরিক সাফল্য তৈরি করার চেষ্টা করছেন, অথচ তারা ইতোমধ্যেই বিব্রতকর পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে।’

তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে নায়িনী বলেন, ‘আমরাই এই যুদ্ধে সমাপ্তি ঠিক করব। আমরা জানি আপনার গোলাবারুদ শিগগিরই শেষ হতে চলেছে এবং আপনি মর্যাদাপূর্ণভাবে যুদ্ধে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন। কেন আপনি মার্কিন জনগণকে সত্য বলছেন না? ট্রাম্প চান না, আমেরিকানরা জানুক, পারস্য উপসাগর অঞ্চলের সমস্ত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।’

১১ দিন আগে ইরানে ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায় ইরানও। এছাড়া দখলদার দেশ ইসরায়েলেও ভয়াবহ হামলা চালায় ইরান।

শুরুতে চার-পাঁচ সপ্তাহ যুদ্ধ চলতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সোমবার তিনি বলেছেন, ‘ওদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই পাল্টা বিবৃতি দেয় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি।

সংগঠনটি জানিয়ে দেয়, ‘যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সেটা আমরা ঠিক করব। আর কেউ নয়।’ একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে এক লিটার তেলও নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেয় তারা।

আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নায়িনী বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগ্রাসী দেশ ও তাদের মিত্রদের কাছে অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও রফতানি করতে দেবে না।

তার মতে, তেল ও গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার যে চেষ্টা করা হচ্ছে, তা ‘অস্থায়ী এবং শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে’।

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন তাও অস্বীকার করেন আইআরজিসির মুখপাত্র।

নায়িনীর দাবি, ‘যুদ্ধের শুরুর দিনের তুলনায় এখন আরও বেশি সংখ্যায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে এবং সেগুলোর ওয়ারহেডের ওজন এক টনেরও বেশি।’

এমআর