আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হামলার মাধ্যমে ইরান বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল-থানি।
রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউচের ইয়ালদা হাকিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা (কাতার এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ) বারবার বলেছি, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে আমরা অংশ নিচ্ছি না এবং কোনোভাবেই উত্তেজনা বৃদ্ধির পক্ষে নই। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর মাত্র এক ঘণ্টা পরই কাতার এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে নির্বিচারে হামলা করছে ইরান।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘তেহরানের সাথে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য কাতারের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই হামলা চালানো হয়েছে। এটা বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা এবং বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার মাধ্যমে ইরান বিপজ্জনক ভুল করছে, যা সবকিছু ধ্বংস করবে।’
কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবসময় ইরানের সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা যে যুক্তি এবং অজুহাতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। তবে আমরা কোনো প্রতিশোধমূলক হামলায় যাব না; বরং ইরানের সঙ্গে সংলাপ এবং কূটনৈতিক পন্থায় সংকট সমাধানে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে’
সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করা যাবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ‘উত্তেজনা আরও বাড়লে এই সংঘাত বৃহত্তর অঞ্চলকে যুদ্ধে টেনে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’
শেখ মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘আমরা উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, তারা (ইরান) আমাদের প্রতিবেশী - এটাই আমাদের নিয়তি।’
প্রসঙ্গত, গত শনিবার সকাল থেকে যৌথভাব ইরানে আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইসরায়েল, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। পাশাপাশি গত কয়েক দিনে এসব দেশের সরকারি ভবন ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতেও বেশ কয়েক দফা হামলা করেছে তেহরান। সম্প্রতি ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, তা সত্ত্বেও দেশগুলোতে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে ইরান।
সূত্র: আল-জাজিরা, স্কাই নিউজ
এমএইচআর