images

আন্তর্জাতিক

‘তেলের দাম ২০০ ডলারের বেশি সহ্য করতে পারলে, এই খেলা চালিয়ে যাও’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:১২ এএম

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জোরালো হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে তারা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেবে। এমনকি এই হামলা চালিয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অনুরূপ আক্রমণ চালানো হবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়েছে। এমনটায় জানায় আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসিয়ের একজন মুখপাত্র (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, জ্বালানি সুবিধা এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আইআরজিসি এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো অনুরূপ পদক্ষেপ থেকে বিরত রয়েছে। 

মুখপাত্র আরও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে (গাল্ফ কান্ট্রিগুলো) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এই হামলা বন্ধ করার জন্য চাপ দিতে হবে। অন্যথায়, অঞ্চলজুড়ে ‘অনুরূপ পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘যদি তোমরা প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারের বেশি সহ্য করতে পারো, তাহলে এই খেলা চালিয়ে যাও।’

এই হুঁশিয়ারি আসছে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে, যা ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬-এ শুরু হয়। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুসহ বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে। এর জবাবে ইরান আইআরজিসিয়ের মাধ্যমে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের হাইফা রিফাইনারি, উপসাগরীয় দেশগুলোতে (সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন) মার্কিন ঘাঁটি, তেল স্থাপনা ও বেসামরিক স্থানে ড্রোন-মিসাইল হামলা।

আইআরজিসিয়ে দাবি করেছে, তারা অঞ্চলে ২০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যা বিশ্বের প্রায় ২০% তেল সরবরাহের পথ। তেলের দাম ইতিমধ্যে ৮০ ডলার ছাড়িয়েছে; বিশ্লেষকরা (যেমন গোল্ডম্যান শ্যাক্স, ডয়চে ব্যাংক) বলছেন, প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হলে দাম ১২০-২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। আইআরজিসি উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জাব্বারি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে তেলের দাম ২০০ ডলারে নেওয়ার ক্ষমতা তাদের আছে।

সূত্র-আলজাজিরা

এসটি