আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে মাল্টার পতাকাবাহী প্রিমা নামক একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে আল-জাজিরার লাইভ আপডেটে এ খবর জানানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি নিজেই। হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া সেই ট্যাঙ্কার জাহজটির নাম প্রিমা। তবে সেটি কোন দেশের জাহাজ তা জানায়নি রেভল্যুশনারি গার্ড।
বিপ্লবী গার্ড কর্পসের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে যানচলাচল নিষেধাজ্ঞা এবং ওই এলাকার নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি নিয়ে তাদের নৌবাহিনী ওই ট্যাঙ্কারটিকে বারবার সতর্ক করেছিল। কিন্তু আইআরজিসি-র সেই বারবার দেওয়া সতর্কতা উপেক্ষা করায় ট্যাঙ্কারটির বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শিপিং ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজ প্রিমা একটি তেল ও রাসায়নিক বহনকারী ট্যাঙ্কার। জাহাজটি ইউরোপীয় দেশ মাল্টার পতাকাবাহী হয়ে চলাচল করছিল।
ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, আইআরজিসি নেভির দেওয়া নির্দেশ অমান্য করার জেরেই এই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা কোনো হতাহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।
হরমুজ প্রণালীকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রফতানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেত না।
গত ২৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজের ক্রুদের সতর্কবার্তা দেওয়া শুরু করে আইআরজিসি। কয়েকটি জাহাজে হামলাও চালানো হয়। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে ১০টি তেলবাহী জাহাজে হামলা করেছে ইরান।
সূত্র: বিবিসি
এফএ