আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
বিশ্বের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। হরমুজ প্রণালী ‘কেউ পার করার চেষ্টা করলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে’- ইরানের তরফে সোমবার এই ঘোষণা আসার পর থেকেই বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের এই রুটটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি শুধু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপ ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজের জন্য বন্ধ থাকবে।
বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউচে প্রকাশিত এক বিবৃতি আইআরজিসি বলছে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিধি অনুসারে, যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ চলাচলের অধিকার ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সকলকে অবশ্যই এই নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপীয় জোট এবং তাদের মিত্রদেগুলোর সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে না। যেকোনো মার্কিন, ইসরায়েলি বা ইউরোপীয় জাহাজ শনাক্ত করা হলে অবশ্যই আঘাত করা হবে।
সংস্থাটি আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপ এবং তাদের সমর্থক দেশগুলোর কোনো জাহাজ ওই এলাকায় দেখা গেলে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রাণরেখা হিসেবে বিবেচিত। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি, যার এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান।

ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই সরু পথ দিয়েই চলাচল করে।
বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।
প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করে; ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও প্রতি ছয় মিনিট পরপর জাহাজ চলতে দেখা যায়।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল, ইরান আক্রান্ত হলে এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে দাম হু হু করে বাড়বে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তেল যেহেতু বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, তাই দামের যে কোনো উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলবে। গত সপ্তাহে ইরানে হামলার পর হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।
এমএইচআর