আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর তেল পরিশোধনাগার আবারো ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে কে বা কারা হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর আগে গত সোমবার একই শোধনাগারে হামলা করা হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরায় শহরে অবস্থিত আরামকোর বৃহত্তম তেল শোধনাগার একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী একটি ড্রোনের মাধ্যমে এই হামলা হয়েছে। তবে হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এর আগে, গত সোমবারও সৌদি আরামকোর রাস তানুরার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া আরও দু’টি ড্রোন ভূপাতিত করে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায়। সেই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ প্ল্যান্টটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় আরামকো। প্রথমে হামলাটি ইরান চালিয়েছে বলে দাবি করা হলেও পরে জানা গেছে এই হামলার পেছনে ছিল ইসরায়েল।
ওই সময় ইরানের একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এই হামলাকে একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন বা ছদ্মবেশী অভিযান হিসেবে অভিহিত করেন। তা মতে, ইসরায়েল মূলত ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তাদের সাম্প্রতিক হামলার অপরাধ থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোর দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই এই ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ইরান ইতিমধ্যে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে, তারা এই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল স্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তেহরান ইতিমধ্যে অনেকগুলো স্থাপনায় সফলভাবে আক্রমণও চালিয়েছে, কিন্তু আরামকোর তেল স্থাপনাগুলো কখনোই ইরানের হামলার তালিকায় ছিল না।
ইরান দাবি করছে, সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোর তেল অবকাঠামোতে আঘাত করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। বরং ইসরায়েল এই হামলা চালিয়ে ইরানকে দোষী সাব্যস্ত করতে চাইছে বলে তেহরান মনে করে।
সূত্র: রয়টার্স, আল আরাবিয়া
এমএইচআর