আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ মার্চ ২০২৬, ১২:২১ পিএম
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরিকল্পনা উল্টো ফল দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তিনি সতর্ক করে বলছেন, এমন আগ্রাসনের প্রভাব ইরানের মধ্যে পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জনের প্রবণতা বাড়াতে পারে এবং পুরো অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে লাভরভ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপের যৌক্তিক পরিণতি হতে পারে এই যে, ইরানের ভেতরেই এমন শক্তি উত্থান ঘটবে, যারা ঠিক সেটাই করতে চাইবে-যেটা যুক্তরাষ্ট্র এড়াতে চায়, অর্থাৎ পারমাণবিক বোমা অর্জন। কারণ যাদের পারমাণবিক বোমা আছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আক্রমণ করে না।’
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ‘সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরব দেশগুলোও পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে ঝুঁকতে পারে। এতে করে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।’
ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে ধরা হয়, যদিও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার বা অস্বীকার-কোনোটাই করে না।
লাভরভ বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার ঠেকানোর নামে যুদ্ধ শুরু করার যে তথাকথিত মহৎ লক্ষ্য দেখানো হচ্ছে, তা বাস্তবে ঠিক উল্টো প্রবণতাকে উস্কে দিতে পারে।’
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কথা বলেছেন। লাভরভ বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে-এমন কোনো প্রমাণ এখনো রাশিয়া দেখেনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, মস্কো কূটনৈতিক সমাধানে সহায়তা করতে প্রস্তুত, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘উস্কানিমূলক ও অকারণ সামরিক আগ্রাসন’ প্রত্যাখ্যান করে।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে প্রথম দফা হামলা চালানোর পর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে একটি ‘পরিকল্পিত সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করে। তাদের অভিযোগ, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনার আড়ালে তেহরানে সরকার পরিবর্তনের প্রকৃত উদ্দেশ্য লুকানো হয়েছিল।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দ্রুত এই অঞ্চলকে মানবিক, অর্থনৈতিক এমনকি সম্ভাব্যভাবে ‘তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই মানবসৃষ্ট সংকটের সব নেতিবাচক পরিণতির দায়’ অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া ও সহিংসতার চক্রসহ’ সম্পূর্ণভাবে তাদের ওপরই বর্তায়।’
এমআর