আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্র ইরানে একযোগে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ ঘটনায় আতঙ্কে ইরানের লাখ লাখ মানুষ। দেশটির রাস্তাঘাটে সেসব দৃশ্য ধরা পড়েছে। কোথাও কোথাও আবার সরকার পতনের সম্ভাবনায় একটা শ্রেণি আনন্দ প্রকাশও করছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হামলা শুরু হতেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে কিছু ভিডিও, যেখানে বিস্ফোরণস্থলের কাছাকাছি লোকজনকে আতঙ্কে দৌড়াতে দেখা যায়; পেছনে শোনা যাচ্ছিল চিৎকার ও কান্নার শব্দ।
অন্যদিকে, সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই যে সরকার পরিবর্তন সম্ভব—এমন বিশ্বাস যাদের আছে, তাদের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি— এমনকি আনন্দ ও উদযাপনের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
অনেক ইরানি সম্ভাব্য মার্কিন হামলা প্রত্যাশা করছিলেন। কিন্তু তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত ভিন্নধর্মী।

একজন ইরানি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমি যদি মারা যাই, ভুলে যেও না যে আমরাও আছি— আমরা যারা যেকোনো সামরিক হামলার বিরোধিতা করি, আমরা যারা কেবল হতাহতদের পরিসংখ্যানের সংখ্যায় পরিণত হবো।’
আরেকজন লিখেছেন, ‘এই যুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়ানো ইসলামি একনায়কতন্ত্র ধ্বংস হোক। আমরা তো ইতোমধ্যে তিনটি যুদ্ধ পাড়ি দিয়েছি।’
গত জানুয়ারিতে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী বেসামরিক দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা পাওয়া বহু ইরানি এখন বলছেন, তারা সরকার পরিবর্তনকে স্বাগত জানান— এমনকি তা যদি সামরিক হস্তক্ষেপ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমেও আসে।
অন্যদিকে, কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, কেবল বিমান হামলা দিয়ে হয়তো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে না এবং সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, এতে সরকার টিকে গেলে নাগরিকদের প্রতি তার আচরণ আরও বর্বর হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও। ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি শহরে তারা মিসাইল হামলা চালিয়েছে। হামলা চালিয়েছে বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটিতেও।
এএইচ