আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
ইরানে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যে মার্কিন সরকারি কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত ইসরায়েল ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক নির্দেশনায় বলেছে, ‘যতক্ষণ বাণিজ্যিক বিমান চালু আছে, সেই সময়ের মধ্যে ইসরায়েল ছাড়ার পরিকল্পনা করুন।’ পাশাপাশি আপাতত ইসরায়েল ভ্রমণ থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এরআগে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানিয়েছেন, যারা ইসরায়েল ত্যাগ করতে চান, তারা যেন ‘আজই’ দেশটির ত্যাগ করে।
স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে মার্কিন মিশনের কর্মীদের কাছে পাঠানো একটি ইমেলে রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি লিখেছে, ‘দূতাবাসের জরুরি নয় এমন কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রের যেখানেই হোক একটি সিট নিশ্চিত করে নিন। সেখান থেকে পরে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাওয়া যাবে; তবে প্রথম অগ্রাধিকার হলো দ্রুত ইসরায়েল ত্যাগ করা।’
হাকাবি আরও লিখেছেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই, তবে যারা যেতে চান তাদের জন্য দেরি না করে দ্রুত চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ফলাফল ছাড়া শেষ হওয়ার পর এই নির্দেশনা এলো। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের শঙ্কার মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান।
ওমানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দেশ দুটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জের্ড ক্রুসনার।
এদিন দুই দফার আলোচনাও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। তবে আগামী সপ্তাহে আবারও আলোচনায় বসতে পারে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
প্রসঙ্গত, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হবে। এমনকি ইসরায়েলে আক্রমণের হুমকিও দিয়েছে তেহরান, যার অর্থ মধ্যপ্রাচ্যে আবারও আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
এদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে বেশ কিছু সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ বাহরাইনে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর থেকে নিজেদের সব জাহাজ সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার আগেও বাহরাইন থেকে নিজেদের জাহাজ সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এমএইচআর