আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
সীমান্তে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত বন্ধে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় আফগানিস্তান আগ্রহী বলে জানিয়েছেন তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন তিনি।
আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তালেবান সরকারের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা কেবল আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার প্রয়োগ করেছি এবং কখনও কাউকে আক্রমণ করিনি। আমরা সর্বদা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপর জোর দিয়েছি এবং আমরা এখনও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাই। প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের সকল দেশের সাথে আফগানিস্তান ভালো এবং ইতিবাচক সম্পর্ক চায়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের ভূখণ্ড কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না এবং আজও এই বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারস্পরিক শ্রদ্ধার উপর ভিত্তি করেই আমাদের পররাষ্ট্র নীতি এবং আমরা কারও প্রতি শত্রুতার পথ নিতে চাই না।’
অতীতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েও পাকিস্তান সেটি ভঙ্গ করেছে উল্লেখ্য তালেবান মুখ্যপাত্র বলেন, ‘পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সম্পূর্ণরূপে তাদের দেশের বিষয় এবং এটি নতুন কিছু নয়। তবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আফগানিস্তানের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান।’
তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে, পাকিস্তানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ চলছে। ২০০৭ সালে টিটিপি পাকিস্তানে তাদের উপস্থিতি ঘোষণা করে, এরপর থেকে পাকিস্তান সেখানে একাধিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ২০১৪ সালের অপারেশন জারব-ই-আজব।’
মুজাহিদ আরও বলেন, ‘তালেবানরা প্রায় চার বছর ধরে আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আছে, তাই পাকিস্তানের এখন তাদের পুরনো এবং ঘরোয়া সমস্যা আফগানিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কোনো মানে হয় না।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘তারা বেশ কয়েকবার সীমা অতিক্রম করেছে, আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের উপর বোমা হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের চালানো হামলায় নিরীহ বেসামরিক নাগরিক, শিশু এবং নারী লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’
পাকিস্তান এসব ‘শয়তানি’ পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তালেবান সরকারের এ মুখপাত্র।
সূত্র: বিবিসি, তোলো নিউজ
এমএইচআর