images

আন্তর্জাতিক

‘ছেলে না হওয়ার শঙ্কায়’ অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তিন মেয়েকে গলাকেটে হত্যা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৭ এএম

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তিন মেয়েকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

বুধবার দিল্লির প্রেমচাঁদ পার্ক এলাকায় নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মুঞ্চুত কেওয়াত ঘটনার পর থেকে পলাতক।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হত্যাকাণ্ডের শিকার ২৭ বছর বয়সী নারী অনিতা কেওয়াত দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার সঙ্গে তিন কন্যাসন্তান-যাদের বয়স আনুমানিক তিন, চার ও পাঁচ বছর। অভিযুক্ত মুঞ্চুত কেওয়াত বিহারের পাটনার বাসিন্দা। প্রায় দুই বছর আগে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন। আজাদপুর মান্ডিতে সবজি বিক্রি করতেন মুঞ্চুত কেওয়াত।

প্রতিবেশীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। পরদিন সকালে অনিতা ও তার তিন সন্তানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেশী রুবি বলেন, সকালে নিচতলার ঘর রক্তে ভেসে যেতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন।

পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে চারজনের মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত মুঞ্চুত কেওয়াত প্রথমে ভারী বস্তু দিয়ে স্ত্রী ও তিন মেয়ের মাথায় আঘাত করেন। তারা অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চারজনের গলা কেটে হত্যা করা হয়।

দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি অত্যন্ত নৃশংস হত্যাকাণ্ড। চারজনের গলার আঘাত এত গভীর ছিল যে শ্বাসনালী পর্যন্ত কেটে গেছে।’

পুলিশের ধারণা, মুঞ্চুত কেওয়াতের তিন মেয়ে আছে। তার স্ত্রী ফের দুই অন্তঃসত্ত্বা। এবারও ছেলেসন্তান হবে কি না, সেই আশঙ্কা থেকে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারেন বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্ভাব্য অন্যান্য কারণের মধ্যে পরকীয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে অপরাধ দমন শাখা ও ফরেনসিক দল। অভিযুক্তকে ধরতে একাধিক পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

এমআর