আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
যুক্তরাজ্যে যারা ভ্রমণে যাবেন তাদের জন্য বুধবার থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের কয়েক ডজন দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য এটি প্রযোজ্য হবে।
ব্রিটিশ সরকার বলেছে, ইলেক্ট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও নিরাপদ করবে। তবে যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে তাদের জন্য এটি সমস্যা তৈরি করেছে। বিশেষ করে নতুন নিয়ম অনুসরণ করার জন্য যারা যুক্তরাজ্যের পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছে।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কিছু দেশে এর মধ্যেই ইটিএ চালু আছে। যদিও এজন্য একেক দেশে একেক পরিমাণে অর্থ ব্যয় করতে হয়।
কানাডায় ইটিএ আবেদনের সাথে সাত কানাডিয়ান ডলার, আর যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয় করতে হয় ৪০ দশমিক ২৭ মার্কিন ডলার। যুক্তরাজ্য সরকার বলেছে, ভ্রমণের জন্য ইটিএ দরকার হলেও এটি পেলেই যে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা যাবে তা নয়। বরং যাত্রীকে অবশ্যই ইমিগ্রেশন সিস্টেমের ভেতর দিয়েই যেতে হবে।
ইটিএ হলো যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের জন্য ডিজিটাল অনুমতি। নতুন এই নিয়ম ৮৫টি দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। যুক্তরাজ্যে যারা এতদিন ভিসা ছাড়া ভ্রমণে যেতে পারতেন তাদের জন্য চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ইটিএ দরকার হবে।
অনুমোদন পাওয়ার পর এই ইটিএর মাধ্যমেই একজন ভ্রমণকারী যুক্তরাজ্যে ছয় মাস পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। এটির মেয়াদ থাকবে দুই বছর কিংবা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত। ইটিএ থাকলে একজন ভ্রমণকারী যুক্তরাজ্যে একাধিকবার আসা-যাওয়া করতে পারবেন।
মূলত পর্যটন, ব্যবস্থা কিংবা স্বল্প মেয়াদি পড়শোনার জন্য এ ধরনের ভ্রমণে কেউ যেতে পারবেন। এটি তাদের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে যারা ভ্রমণের অংশ হিসেবে সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাজ্যের ভেতর দিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাবেন।
তবে যারা যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দর দিয়ে ট্রানজিট করবেন এবং যাদের ইমিগ্রেশন পার হতে হবে না, তাদের জন্য ইটিএ প্রযোজ্য হবে না।
দীর্ঘমেয়াদী ভ্রমণ বা লম্বা সময়ের জন্য পড়ালেখা করতে হলে ভিসা দরকার হবে। আবার এখন যাদের যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের জন্য ভিসা নিতে হচ্ছে তাদেরকে ভিসাই নিতে হবে। তাদের জন্য ইটিএ প্রযোজ্য হবে না।
ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিকদের জন্য ইটিএ বা ভিসা প্রয়োজন হবে না। এমনকি যুক্তরাজ্যের ভেতর দিয়ে অন্য দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিংবা যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের জন্য তাদের ইটিএস কিংবা ভিসার প্রয়োজন হবে না।
তবে আরও কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে। যেমন যাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি আছে কিংবা ফ্রান্স থেকে স্কুল ট্রিপে ভ্রমণে আসার ক্ষেত্রেও ইটিএ দরকার হবে না। এই কর্মসূচি ২০২৩ সালের অক্টোবরে চালু করা হয়েছিল। তবে যুক্তরাজ্য সরকার বলেছে, নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য ভ্রমণকারীদের যথেষ্ট সময় দিতে এটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।
গত নভেম্বরে তারা জানিয়েছিল, ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকেই নতুন এই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে। যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, ইটিএ পদ্ধতি দেশটির অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করবে এবং আরও নিরাপদ করে তুলবে।
ইটিএ পেতে ব্যয় হবে ১৬ পাউন্ড। তবে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, এটিকে ভবিষ্যতে ২০ পাউন্ডে উন্নীত করার পরিকল্পনা আছে। আর আবেদনের জন্য গুগল প্লে কিংবা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে এ সংক্রান্ত অ্যাপ ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবেদনের সাথে যোগাযোগের নম্বর, পাসপোর্টের বিস্তারিত, যথোপযুক্ত ছবি ও কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। একই সাথে ইটিএর জন্য আবেদনের সময় যেই পাসপোর্টের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে সেই পাসপোর্টই ভ্রমণের সময় সাথে রাখতে হবে।
ব্রিটিশ সরকার বলেছে, অ্যাপে আবেদনের পরপরই বেশিরভাগ মানুষ স্বয়ংক্রিয় উত্তর পাবেন। তারপরেও কমপক্ষে তিন কার্যদিবস হাতে রেখে আবেদনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ যদি কারও ইটিএ আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাহলে আবেদনকারীকে তার কারণ জানানো হবে এবং তিনি আবারো আবেদন করতে পারবেন। তবে কারও আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তিনি আপিল করতে পারবেন না। এর পরিবর্তে তিনি যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের জন্য ভিসার আবেদন করতে পারবেন।
ভ্রমণের জন্য চেক-ইন করার বৈধ ইটিএ না থাকলেও একজন যাত্রী তার যাত্রাই শুরু করতে পারবেন না। এয়ারলাইন্স, রেল কোম্পানি কিংবা শিপিং কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করবে; যা দিয়ে তারা ভ্রমণের এই ডিজিটাল অনুমতি আছে কি-না তা হোম অফিসের সাথে যাচাই করতে পারবে।
এই ইটিএ অনলাইনে পাসপোর্টের সাথে সংযুক্ত থাকবে। ফলে কাউকে এর ছাপানো কপি বহন করে নিতে হবে না। তবে কেউ ইচ্ছে করলে একটি কপি নিজে সাথে রাখতে পারেন। আবার যুক্তরাজ্য ভ্রমণের জন্য ইটিএ দরকার হলেও এটি পেলেই যে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা যাবে তা নয়। বরং যাত্রীকে অবশ্যই ইমিগ্রেশন সিস্টেমের ভেতর দিয়েই যেতে হবে।
অন্য কোনও ইস্যু থাকলে ইটিএ থাকলেও ইমিগ্রেশন একজন যাত্রীকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি নাও দিতে পারে।
যুক্তরাজ্য ও অন্য একটি দেশের নাগরিক; এমন দ্বৈত নাগরিকরা ইটিএ পাবেন না। দেশে প্রবেশের জন্য তাদের হয়তো ব্রিটিশ পাসপোর্ট দেখাতে হবে, কিংবা তাদের অন্য দেশের পাসপোর্টের সাথে ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ বা প্রবেশাধিকার সনদ যুক্ত থাকতে হবে। এগুলোর কোনও একটি না থাকলে তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে না কিংবা তারা বাধার মুখে পড়তে পারেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
এদিকে নাগরিকত্ব পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রিটিশ পাসপোর্ট বা সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট দেওয়া হয় না। ফলে কিছু দ্বৈত নাগরিক কখনও এগুলোর জন্য আবেদন করেননি, যদিও তারা কয়েক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। এগুলো পেতে কয়েক সপ্তাহের মত সময় লাগে। আবার এগুলোর জন্য অর্থ ব্যয়ের বিষয়ও আছে। একটি ব্রিটিশ পাসপোর্টের জন্য একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিকে ১০০ পাউন্ড ফি দিতে হয়।
আবার সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট- এর জন্য দিতে হবে ৫৮৯ পাউন্ড। এর আগে দ্বৈত নাগরিকরা ব্রিটিশ পাসপোর্ট ছাড়াই যুক্তরাজ্যে আসা-যাওয়া করতে পারতেন।
বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিক নতুন নিয়মের কারণে ব্রিটিশ পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সংগ্রামের কথা জানিয়েছেন। এদের কেউ কেউ নিয়মটি চালুর সময় অন্য দেশে থাকার কারণে নতুন নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাননি।
হোম অফিসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, দ্বৈত নাগরিকদের সঠিক কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকেই। এছাড়া ইটিএ চালু নিয়ে সবাইকে সচেতন করার জন্য প্রচার চলছে ২০২৩ সাল থেকে। বিবিসি বাংলা
এমএইচআর