আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির সাথে সাথে মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০ টিরও বেশি সামরিক বিমান মেতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বিশাল মেতায়েন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাকে আরও উসকে দিয়েছে।
ওপেন সোর্স গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বরাতে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, মূলত কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমান ঘাঁটি এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি এবং সমুদ্রে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ যুদ্ধবিমানের এই বিশাল বহর মেতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত জানুয়ারির শুরু থেকে, এই বিমান বহরকে একত্রিত করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) আনুমানিক ২৭০টি সি-১৭ এবং সি-৫ লজিস্টিক বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এসব ফ্লাইটে প্যাট্রিয়ট এবং টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থার্ড) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পরিবহন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমান বহরে ৭০ শতাংশই আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান এবং ৩০ শতাশং সহায়ক বিমান রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৮৪টি এফ-১৮, ৩৬টি এফ-১৫, ৪৮টি এফ-১৬ এবং ৪২টি এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান রয়েছে। এছাড়াও ট্যাঙ্কার বিমান এবং বিশেষ ভূমিকা পালনের জন্য রয়েছে- ১৮টি ইএ-১৮জি ‘গ্রোলার’ ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বিমান, ১২টি এ-১০সি ‘থান্ডারবোল্ট’, ৫টি ই-১১এ ব্যাটলফিল্ড এয়ারবর্ন কমিউনিকেশনস নোড এবং ৬টি ই৩ ‘সেন্ট্রি’ এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বিমান।
তবে গত জুনে অপারেশন মিডনাইট হ্যামারে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো বি-২ বোমারু বিমানের কোনও গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এই বিমান বহরের ওপরে সবার নজরে থাকলেও ইসরায়েলও গোপনে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, ইসরায়েলের ৬৬টি এফ-১৫, ১৭৩টি এফ-১৬ এবং ৪৮টি নতুন এফ ৩৫ যুদ্ধবিমানের বিশাল বহরও ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যা মার্কিন বাহিনীর বিমানশক্তিকে কার্যকরভাবে দ্বিগুণ করে তুলবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার কান জানিয়েছে, গত মঙ্গলবারই ইসরায়েল ১২টি মার্কিন এফ-২২ র্যাপ্টার স্টিলথ ফাইটারও হাতে পেয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান। এই বিমানগুলোও ইরানের বিরুদ্ধে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
প্রসঙ্গত, পরমাণু চুক্তি নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার আলোচনায় বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে তার আগেই ইরানকে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, কূটনৈতিক সমাধানই চান তিনি, তবে প্রয়োজনে ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহার করতেও পিছপা হবেন না!
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্টেট অব ইউনিয়নের বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘এই সমস্যার সমাধানে আমি প্রাধান্য দেব কূটনীতিকে। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত— আমি সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া বিশ্বের এক নম্বর রাষ্ট্র ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেব না।’
ভবিষ্যতে ইরানের মিসাইল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইরান ইতিমধ্যে এমন মিসাইল তৈরি করেছে যেগুলো ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারবে। তারা এখন এমন মিসাইল তৈরির কাজ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারবে।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ফলে এখন বৃহস্পতিবারের বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে আছে সবাই।
সূত্র: আনাদোলু
এমএইচআর