আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
প্রায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ তুষারঝড়ের বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো। ঝড়ের কারণে ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত পূর্ব উপকূল জুড়ে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভারী তুষারপাত, জমাট বরফ ও তীব্র ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজ্যগুলোতে ইতিমধ্যেই যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং সাধারণ জনগণকে রাস্তায় বের না হতে নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাতিল করা হয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি ফ্লাইট।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মধ্য-আটলান্টিক থেকে মেইন পর্যন্ত- নিউ ইয়র্ক, ডেলাওয়্যার, ম্যাসাচুসেটস, নিউ জার্সি এবং কানেকটিকাট, রোড আইল্যান্ড এবং পেনসিলভানিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, রোববার থেকে শুরু হওয়া এ তুষারঝড়ে সোমবার সকাল ৭টা পর্যন্ত কয়েকটি এলাকায় ২২ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হয়েছে।

এনডব্লিউএস আরও পূর্বাভাস দিয়েছে, মেরিল্যান্ড থেকে দক্ষিণ-পূর্ব নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত তুষারঝড়ের মাত্রা আরও বাড়তে পারে- ঘণ্টায় দুই থেকে তিন ইঞ্চি বেগে তুষারপাত হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ করে তুলবে।
এনডব্লিউএস জানিয়েছে, রবিবার শেষের দিকে এবং সোমবার পর্যন্ত ঘণ্টায় ৬০ মাইল (১০০ কিলোমিটার) বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও এই ঝড়ের কারণে ডেলাওয়্যার থেকে ম্যাসাচুসেটসের কেপ কড পর্যন্ত নদীগুলো প্রভাবিত হয়ে মাঝারি থেকে বড় উপকূলীয় বন্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
এদিকে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শহরের সম্পূর্ণ ট্র্যাফিক নেটওয়ার্ক বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ ঝড়ের প্রভাব ইতিমধ্যেই নিউ ইয়র্কে দৃশ্যমানতা কমে গেছে, যার ফলে ব্রুকলিন থেকে ওয়াল স্ট্রিটের আকাশচুম্বী ভবনগুলো দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তুষারপাত এবং হিমশীতল কুয়াশার কারণে সোমবার সকালে সেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে।

জরুরি অবস্থা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করে নিউ ইয়র্কের মেয়র মামদানি বলেন, ‘গত দশকে নিউ ইয়র্ক সিটি এত বড় ঝড়ের মুখোমুখি হয়নি। আমরা নিউ ইয়র্কবাসীদের সকল অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে অনুরোধ করছি। রোববার রাত ৯টা থেকে সোমবার বিকাল পর্যন্ত রাস্তা, মহাসড়ক এবং সেতু বন্ধ থাকবে।’ তবে জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
তুষারঝড়ের সময়কালের নিউ ইয়র্ক সিটিরে সমস্ত স্কুল বন্ধ এবং ১৩টি স্কুল ভবনকে ‘উষ্ণায়ন কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার করার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, পেনসিলভানিয়া, ডেলওয়ার, কানেটিকাট ও নিউ জার্সিতে সোমবার অসংখ্য স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, তবে সেসব অঙ্গরাজ্যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়নি। আর ওয়াশিংটনের পাবলিক স্কুলগুলো খোলা রয়েছে, তবে দুই ঘন্টা দেরিতে ক্লাস শুরু হবে।
এদিকে ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুসারে, সোমবার ভোর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আন্তর্জাতিক ও অভন্তরীণ মিলিয়ে ৫ হাজার ৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই ঝড়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং লাগার্ডিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
অন্যদিকে ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট পাওয়ারআউটরেজ.ইউএস জানিয়েছে, জমাটবাধা বরফে গাছ ভেঙে ও বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লাখ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন রয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে নিউ জার্সিতে ১ লাখ ২২ হাজার, ম্যাসাচুসেটসে ১ লাখ ৪৬ হাজার এবং ডেলাওয়্যারে ৭১ হাজার বাড়িতে বিদুৎ নেই। এছাড়াও নর্দান মিসিসিপি ও টেনেসির কিছু অংশে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি, ইউএসএ টুডে
এমএইচআর