তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
গ্রীষ্মকাল হোক কিংবা অন্য কোনো ঋতু, ঘরের গরম দূর করতে সিলিং ফ্যানের জুড়ি মেলা ভার। সকাল থেকে রাত কিংবা অনেক পরিবারে সারা দিন-রাত ফ্যান একটানা চলতে থাকে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই একটিমাত্র ফ্যানের পেছনে প্রতি মাসে আপনার পকেট থেকে ঠিক কত টাকা বিদ্যুৎ বিল যাচ্ছে?
ফ্যানের ধরন, ওয়াটেজ এবং ব্যবহারের সময়ের ওপর নির্ভর করে এই খরচের হিসাব কমবেশি হয়ে থাকে।ফ্যানের ওয়াটেজ ও বিদ্যুৎ খরচ বাজারে বিভিন্ন ধরনের সিলিং ফ্যান পাওয়া যায় এবং সেগুলোর বিদ্যুৎ খরচ করার ক্ষমতা বা ওয়াট ভিন্ন হয়।
সাধারণত সাধারণ বা প্রচলিত সিলিং ফ্যানগুলো ৭০ থেকে ৮০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করে। অন্যদিকে বর্তমান প্রযুক্তির বিএলডিসি (BLDC) বা ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্যানগুলো অনেক বেশি শক্তি সাশ্রয়ী হয় এবং এগুলো মাত্র ২৫ থেকে ৩৫ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ টানে।
মাসিক বিদ্যুৎ খরচের হিসাব
একটি সাধারণ ৭০ ওয়াটের সিলিং ফ্যান যদি প্রতিদিন গড়ে ১০ ঘণ্টা করে চালানো হয়, তবে তার মাসিক হিসাবটি নিচে তুলে ধরা হলো-
দৈনিক বিদ্যুৎ ব্যবহার: ৭০ ওয়াট × ১০ ঘণ্টা = ৭০০ ওয়াট-ঘণ্টা বা ০.৭ ইউনিট।
মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার (৩০ দিনে): ০.৭ ইউনিট × ৩০ দিন = ২১ ইউনিট।
বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার ট্যারিফ বা প্রতি ইউনিট দাম গড়ে ৮ থেকে ১০ টাকা ধরলে, ২১ ইউনিটের জন্য মাসে আনুমানিক ১৬৮ থেকে ২১০ টাকার মতো খরচ হতে পারে। তবে বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহার করলে এই খরচ অর্ধেকেরও কমে নেমে আসে এবং তা প্রায় ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
ব্যবহারের সময়: ফ্যান দিনে কত ঘণ্টা চলছে তার ওপর খরচ সরাসরি নির্ভর করে। সারাদিন বা একটানা চালালে ইউনিট খরচ বৃদ্ধি পায়।
ফ্যানের গতি ও প্রযুক্তি: পুরনো বা রেগুলেটরে সমস্যাযুক্ত ফ্যান বেশি বিদ্যুৎ টানতে পারে। অপরদিকে আধুনিক বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহার করলে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।
স্ল্যাব রেট: আমাদের দেশে বিদ্যুতের বিল সাধারণত স্ল্যাব বা ধাপে ধাপে নির্ধারিত হয় (যেমন: ব্যবহার বেশি হলে প্রতি ইউনিটের দাম বেড়ে যায়)। তাই ফ্যানসহ অন্যান্য যন্ত্রের সম্মিলিত ব্যবহারের ফলে অনেক সময় পুরো বিলের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব পড়তে পারে।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে অপ্রয়োজনে ফ্যান চালিয়ে রাখা বন্ধ করা উচিত এবং পুরোনো ফ্যান পরিবর্তন করে শক্তি সাশ্রয়ী আধুনিক ফ্যান ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
এজেড