আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের জমি দখল করে নেওয়ার ইসরায়েলি পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে ভারতও। ইসরায়েলের এ ভূমিকার সমালোচনা করে দু'দিন আগে যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল বিশ্বের ৮৫টি দেশ।
সেই তালিকায় তখন ভারত ছিল না। পরে আরও কয়েকটি দেশ ওই বিবৃতিকে সমর্থন জানায়। শতাধিক দেশের ওই তালিকায় রয়েছে ভারতও।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি দূত রিয়াদ মনসুর বুধবার গভীর রাতে সমাজমাধ্যমে এমনটাই দাবি করেছেন। যদিও দিল্লি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। কারণ, ভারতের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল।
যৌথ বিবৃতিতে পশ্চিমতীর দখলের পরিকল্পনার নিন্দা জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের জমি দখল করে অবৈধ সম্প্রসারণের জন্য ইসরায়েলের একতরফা সিদ্ধান্ত এবং পদক্ষেপের আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ধরনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এটি বন্ধ হওয়া উচিত।
মূল বিবৃতিটি প্রকাশ্যে আসে গত মঙ্গলবার। তাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আরব লীগসহ মোট ৮৫টি দেশ ও সংস্থার সমর্থন ছিল। তবে মঙ্গলবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ভারত ছিল না।
বুধবার গভীর রাতের দিকে আরও কিছু দেশের সমর্থন-সহ ওই বিবৃতিটি ফের প্রকাশিত হয় জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের দূতের ফেসবুক পেজ ‘স্টেট অফ প্যালেস্টাইন’-এ।
শতাধিক দেশের সমর্থন-সহ ওই যৌথ বিবৃতিতে ভারতের নামও উল্লেখ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আমেরিকার নেতৃত্বে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর বৈঠক রয়েছে ওয়াশিংটনে।
এদিন জাতিসংঘেও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বৈঠক রয়েছে। তার ঠিক আগেই এই যৌথ বিবৃতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বস্তুত, জাতিসংঘের সব দেশ এখনও ফিলিস্তিনকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি। প্রায় ১৫০টি দেশ তাদের এ পর্যন্ত রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই কারণে বর্তমানে ‘অবজার্ভার স্টেট’ হিসাবে জাতিসংঘে রয়েছে ফিলিস্তিন। তবে, তারা জাতিসংঘের বিভিন্ন আলোচনা সভায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রস্তাব পাশ হয় জাতিসংঘে। ওই প্রস্তাবের সমর্থনে ভারত-সহ ১৪২টি দেশ ভোট দেয়। ১৯৩ দেশ নিয়ে গঠিত জাতিসংঘের ওই সাধারণ সভার ভোটাভুটিতে ইসরায়েল-সহ ১০টি দেশ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয়।
১২টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। জাতিসংঘে গৃহীত ওই প্রস্তাবে গাজাকে পুরোপুরি হামাসের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল।
-এমএমএস