images

আন্তর্জাতিক

সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১২ এএম

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় থাকা তাদের সেনাবাহিনীর অবশিষ্ট বড় অংশ প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। হোয়াইট হাউজের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, দেশে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই এখন সিরিয়ার সরকারের নেতৃত্বে চলবে এবং বড় পরিসরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আর প্রয়োজন নেই। সূত্র: বিবিসি।

এই পদক্ষেপ আসে এমন সময় যখন মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে ইরানের কাছে, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় অবস্থান করছে। মূলত ইসলামিক স্টেটের (আইএসআইএস) প্রভাব মোকাবিলায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানে রয়েছে তারা।

হোয়াইট হাউজের ওই কর্মকর্তা জানান, সিরিয়ায় থাকা প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি শর্তসাপেক্ষ রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনো অঞ্চলটির যেকোনো হুমকির জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, যেখানে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং অসংখ্য যুদ্ধবিমান রয়েছে—ইরানের নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থান করছে।

usa-2এছাড়া, বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকেও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে, যা আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানান, ট্রাম্প বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী শনিবার থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত থাকবে, যদিও প্রেসিডেন্ট এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

যুক্তরাষ্ট্র এ বছরের শুরুতেই সিরিয়ার দুটি ঘাঁটি-দক্ষিণাঞ্চলের আল তানফ গ্যারিসন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল শাদ্দাদি ঘাঁটি—ত্যাগ করেছে।

এসব পদক্ষেপ আসে ২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতন এবং সিরিয়ায় নিরাপত্তার উল্লেখযোগ্য উন্নতির ফলে আইএসআইএস-এর দুর্বল হয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে। এরপর থেকে, ট্রাম্প প্রশাসন দামেস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

শারা গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন-সিরিয়ার কোনো নেতার জন্য এ ধরনের প্রথম সফর। সিরিয়ার সরকার কিছু সময়ে স্থানীয় সামরিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘাতে জড়ালেও জানুয়ারিতে একটি চুক্তি করে, যার মাধ্যমে কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসকে সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করা হবে।

যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে সিরিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রুবিও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখা নিয়ে নিজের উদ্বেগও প্রকাশ করেন।

এমআর