images

আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে হাসিনার অবস্থান সম্পর্কে বাধা হবে না, দ্য হিন্দুকে ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক কোনো একটি ইস্যুতে ‘জিম্মি’ হবে না। এমনকি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টিও ভারতের সঙ্গে বিস্তৃত সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশের জন্য বাধা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের স্বার্থ আছে এমন সব প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হবে এবং ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারত্ব ত্বরান্বিত করা হবে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি শেখ হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। জনগণের তাকে বিচারের মুখোমুখি করার জোর দাবি রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভারতের উচিৎ আমাদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা। কিন্তু ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে ফেরত না দিলেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কসহ বিস্তৃত সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে তা কোনো বাধা হয়ে দাড়াবে না। আমরা আরও উন্নত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত-বাংলাদেশের বৃহত্তর সম্পর্ককে একটি মাত্র ইস্যুর ‘জিম্মি’ করা উচিত নয়।

গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রত্যর্পণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৭ মাস ধরে ভারতের প্রতি অনুরোধ জানালেও নয়াদিল্লি এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও আমলাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

image

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কিছু জটিল ইস্যু থাকলেও, তা সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে ছাপিয়ে যাওয়া উচিৎ নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অনেক মতপার্থক্য আছে, তবুও তারা একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও আমরা একটি মাত্র ইস্যুতে আটকে থাকতে পারি না।’

গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, পানি বণ্টন এবং সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে বিএসপি মহাসচিব বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমরা যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের কথা বলতে হবে। যারা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলে, তারা উন্মাদের মতো কথা বলে।’

সাক্ষাতকারে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিকে ভারত ও বাংলাদেশের জন্য নতুন করে কাজ করার একটি সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের মতো খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের কারিগরি শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য সম্পদ রয়েছে। আমাদের বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণ আছে। তাদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা দরকার, যাতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে তারা কর্মসংস্থান পায়।’

সূত্র: দ্য হিন্দু

এমএইচআর