আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
ফিলিস্তিনের গাজা এক কথায় এখন ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণেই চলে গেছে। এবার অধিকৃত পশ্চিমতীরের একটি বড় অংশ ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাবকে অনুমোদন দিয়েছে নেতানিয়াহু সরকার।
১৯৬৭ সালে ভূখণ্ডটি অধিগ্রহণের পর প্রথমবারের মতো এ সিদ্ধান্ত নিলো তেলআবিব। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
এই অনুমোদনের ফলে জর্ডান ও ফিলিস্তিনি আইনে পশ্চিমতীরের জমি অ-ফিলিস্তিনিদের কাছে বিক্রির নিষেধাজ্ঞা আর থাকবে না। ইসরায়েলি নাগরিকরা এখন সেখানে সরাসরি জমি কেনার অনুমতি পাবে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি সম্প্রচার মাধ্যম কান জানায়, দেশটির কট্টরপন্থী ও উগ্রবাদী তিন মন্ত্রী এ প্রস্তাবনা জমা দেয়। তারা হলেন উগ্র ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।
এর আগে, ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পশ্চিমতীরের ক্ষমতার প্রতিষ্ঠিত বিভাজনে বড় ধরনের পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে।
তিন দশক আগে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ঐতিহাসিক ‘অসলো চুক্তির’ মাধ্যমে ক্ষমতার এই ভারসাম্য নির্ধারিত হয়েছিল, যে চুক্তিতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি নেতারা স্বাক্ষর করেছিলেন।
নতুন এই নিয়মে ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে ইসরায়েল শুধুমাত্র সামরিক দখলদারিত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে ফিলিস্তিনিদের দ্বারা পরিচালিত এলাকাগুলোতেও পৌরসেবা প্রদানের নিয়ন্ত্রণ নেবে।
এর পাশাপাশি পুরো পশ্চিমতীরের পানি, পরিবেশ ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ রক্ষার অজুহাতে তথাকথিত ‘ঐতিহ্যবাহী স্থান’এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে।
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এই পদক্ষেপের লক্ষ্য স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলের সব অংশে আমাদের শিকড় আরও গভীরে নিয়ে যাচ্ছি এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে কবর দিচ্ছি।’
স্মোটরিচের দলের আরেক আইনপ্রণেতা জভি সুক্কত জানান, তিনি পুরো পশ্চিমতীরে পূর্ণ ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব আশা করেন।
এই পরিস্থিতিকে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি মার্কিন সরকারের কাছে এর ‘কঠোর প্রতিক্রিয়া’ দাবি করে বলেন, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
-এমএমএস