images

আন্তর্জাতিক

গাজায় সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৪ এএম

ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আট হাজার সৈন্য মোতায়েনে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সরকার। সূত্র: বিবিসি।

গত বছরের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে যেসব দেশ গাজায় সৈন্য পাঠানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়াই প্রথম সৈন্য পাঠাতে যাচ্ছে।

দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল মারুলি সিমানজুন্তাক জানিয়েছেন, যেসব সেনাদের গাজায় পাঠানো হবে, তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। গাজায় তারা মূলত চিকিৎসা ও প্রকৌশলগত কাজের দায়িত্বে থাকবেন।

ইন্দোনেশিয়া গত মাসে ঘোষিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদে যোগ দেয়। ওই পরিষদকে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের অনুমতি দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

বাহিনীটি গাজার নিরাপত্তায় সীমান্ত পাহারা ও হামাসসহ গোটা এলাকাটি নিরস্ত্রীকরণে সহায়তা করবে।

১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিসে’র প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বোর্ডটি গাজার নতুন টেকনোক্র্যাট সরকার ও যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পুনর্গঠন কার্যক্রমও তদারকি করবে।

ইন্দোনেশিয়ার সৈন্যদের ঠিক কখন পাঠানো হবে এবং তারা সেখানে কী কাজ করবেন, সেটি এখনো পুরোপুরিভাবে চূড়ান্ত হয়নি। তবে মনে হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গাজায় সৈন্য পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে অটল রয়েছেন।

যদিও ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগদানের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছে ইন্দোনেশিয়ার কিছু ইসলামিক গোষ্ঠী। কারণ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে দেশটির মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তবে সমালোচনার জবাবে প্রাবোও সুবিয়ান্তো যুক্তি দিচ্ছেন যে, বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ইন্দোনেশিয়ার দায়িত্ব।

এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের ‘দ্বি-রাষ্ট্রীয়’ সমাধান নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলেও মনে করেন তিনি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও খান ইউনিসের মধ্যবর্তী একটি এলাকায় ইন্দোনেশিয়ার কয়েক হাজার সেনাদের জন্য একটি ব্যারাক তৈরির জায়গা এরই মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো মুসলিম দেশগুলোও গাজায় সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে তারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের সৈন্যরা কেবল শান্তিরক্ষী হিসেবে কাজ করবে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় তারা কোনোভাবেই জড়াবে না।

ইসরায়েল এখনও গাজার কিছু অংশ দখল করে রেখেছে। ফলে হামাস যদি তাদের অস্ত্র জমা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীর জন্য গাজায় শান্তি বজায় রাখা কতটা সম্ভব হবে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এমআর