images

আন্তর্জাতিক

জুনের মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র: জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৮ এএম

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ জুনের মধ্যে শেষ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা হওয়ার জন্য উভয় পক্ষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, ‘এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব দিয়েছে যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার আলোচক দল যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠকে বসবে। সম্ভবত মিয়ামিতে এক সপ্তাহের মধ্যে এটি অনুষ্ঠিত হবে। আমরা অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি।’

ওয়াশিংটন বা মস্কো থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।

এদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে চলেছে। ফলে তীব্র শীতের মধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আবুধাবিতে দ্বিতীয় দফা যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনায় কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, ‘কঠিন বিষয়গুলো আগের মতোই কঠিন’। বিশেষ করে ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার মতো ইস্যু নিয়ে চাপ রয়েছে ইউক্রেনের ওপর।

প্রথমবারের মতো শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে জেলেনস্কি সতর্ক করেছেন, ‘প্রস্তুতিমূলক কাজ প্রয়োজন।’ চুক্তির সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা জুনের মধ্যেই সবকিছু শেষ করতে চায়।’

জেলেনস্কি যোগ করেছেন, ‘গ্রীষ্মের আগেই কেন? যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি-মধ্যবর্তী নির্বাচন-এর প্রভাব ফেলতে পারে।’

রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে

ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘রুশ অপরাধীরা আরেকটি ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।’ সাবস্টেশন, উচ্চভোল্টেজ লাইন ও বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করা হয়েছে।

ইউক্রেনে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ঘাটতি বেড়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য প্রতিবেশী পোল্যান্ডের কাছে চাওয়া হয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতের হামলায় ৪০০ এর বেশি ড্রোন ও ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। অন্তত চারটি অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভে ডোব্রোটভির বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলায় হাজারো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়েছেন। পাশের ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্কে বুরশতিন বিদ্যুৎকেন্দ্রেও আঘাত লাগে। ডিটিইকে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর এটি তাদের দশম বড় হামলা। পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে ২২০ বারের বেশি হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

রিভনে একজন নিহত এবং জাপোরিঝিয়ায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভে মানুষ আবারও মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিচ্ছেন।

এমআর