images

আন্তর্জাতিক

ওয়াশিংটনে প্রথম বৈঠক ১৯ ফেব্রুয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম

ফিলিস্তিনের গাজা নিয়ে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে হোয়াইট হাউস। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা ‘শান্তি পর্ষদ’র এটি হবে প্রথম বৈঠক। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ও বোর্ডে থাকা চারটি দেশের কূটনীতিকদের বরাতে এই বৈঠকের কথা জানা গেছে। তবে পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সময়সূচি বা কাঠামো বদলাতেও পারে বলে জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকটি ওয়াশিংটনের যুক্তরাষ্ট্র শান্তি ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের ঠিক আগের দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। ফলে গাজা ইস্যুতে এই বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়ছে।

আরও পড়ুন: 

এই বৈঠক শুধু রাজনৈতিক আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। গাজা পুনর্গঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহও এর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। 

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি নিজেই এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্পের দাবি, এই বোর্ডের লক্ষ্য হবে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের সমাধান খোঁজা। 

তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ আশঙ্কা করছেন, এই উদ্যোগ জাতিসংঘের ভূমিকা দুর্বল করতে পারে।

বিশ্বের অনেক দেশই ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশ এতে যুক্ত হলেও ইউরোপসহ পশ্চিমা অনেক ঘনিষ্ঠ মিত্র এখনও এই উদ্যোগে যোগ দেয়নি।

গত নভেম্বরের মাঝামাঝি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে, যেখানে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেয়া হয়।

এই উদ্যোগে ‘বোর্ড অব পিস’ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভূমিকার কথাও বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত অক্টোবরে গাজায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শুরু হয়, যা ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ ছিল। এই পরিকল্পনায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস সম্মতি দেয়।

আরও পড়ুন: 

গত বছরের শেষ দিকে প্রকাশিত ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বোর্ডের দায়িত্ব ছিল গাজার অস্থায়ী শাসনব্যবস্থা তদারকি করা। পরে ট্রাম্প জানান, বোর্ডের কাজ শুধু গাজাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিয়েও কাজ করবে।

তবে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, কোনো বিদেশি ভূখণ্ডের প্রশাসনিক তদারকি করা ঔপনিবেশিক কাঠামোর কথা মনে করিয়ে দেয়। আরও অভিযোগ উঠেছে, এই বোর্ডে কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি।

এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও পরিস্থিতি এখনও খুবই নাজুক। বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫০ জন ফিলিস্তিনি এবং চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। পুরো অঞ্চলজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ খাদ্যসংকট। গাজার প্রায় পুরো জনগোষ্ঠীই বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

-এমএমএস