images

আন্তর্জাতিক

রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু চুক্তির মেয়াদ শেষ, এবার কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ‘নিউ স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটি’ বা ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি), যার ফলে গত দেড় দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর আর কোনো সীমা রইল না। এতে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

২০১০ সালের ৮ এপ্রিল চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে এই নিউ স্টার্ট’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র, যা ২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। চুক্তির আওতায় উভয় দেশের মোতায়েনকৃত পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ১,৫৫০ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমানের সংখ্যা ৭০০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার এখন এই আইনি বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না, ফলে উভয় পক্ষই চাইলে তাদের অস্ত্রের সংখ্যা বাড়াতে পারবে। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।

এ বিষয়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি অব স্টেট থমাস কান্ট্রিম্যানের মতে, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হলো– এটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং কোনো অপ্রত্যাশিত বা প্রত্যাশিত ঘটনা এমন এক সংঘাতের সূত্রপাত করতে পারে।’

অন্যদিকে জাতিসংঘের মতে, এই চুক্তির অবসান বিশ্ব শান্তির জন্য একটি ‘গুরুতর মুহূর্ত’ এবং এটি বিশ্বকে এক অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।

চুক্তির অধীনে একে অপরের পরমাণু ঘাঁটিগুলো সশরীরে পরিদর্শন ও তথ্য বিনিময়ের যে ব্যবস্থা ছিল, তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। এর ফলে একে অপরের সক্ষমতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় ভুল বোঝাবুঝি ও পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস।
 
তবে কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির সীমাবদ্ধতাগুলো পুরনো ও অপ্রয়োজনীয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে আটকে রেখেছিল, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন চীন তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত সম্প্রসারণ করছে।
 
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ চুক্তির সমালোচকরা বলেন, এতে চীনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পেন্টাগনের ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান গতিতে অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াতে থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে চীনের কাছে প্রায় ১৫০০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে।
 
চুক্তিটি মূলত ১০ বছরের জন্য কার্যকর ছিল। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া এর মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়াতে সম্মত হয়, যা বলবৎ ছিল ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ানোর সুযোগ না থাকলেও, দুই দেশ চাইলে চুক্তিতে নির্ধারিত সীমাগুলো মেনে চলতে পারত। তবে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার যৌথভাবে গড়ে তোলা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে আবার পারমাণবিক পরীক্ষা চালুর অঙ্গীকার করেন, যদিও এ বিষয়ে বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি।
 
গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও এক বছরের জন্য এই সীমাবদ্ধতা বজায় রাখার প্রস্তাব দেন। সে সময় ট্রাম্প বলেন, ‘প্রস্তাবটি আমার কাছে ভালো ধারণা মনে হয়েছে’। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে খুব একটা উদ্বেগ প্রকাশ করেননি ট্রাম্প।

সম্প্রতি তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, মেয়াদ শেষ হলে শেষ হবে। আমরা আরও ভালো একটি চুক্তি করব।
 
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত জানান, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে নতুন যে পারমাণবিক চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন, সেটিই প্রশাসনের অবস্থান। 

তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে প্রকৃত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় যদি তাতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, কারণ তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত ও ব্যাপকভাবে বাড়ছে। তবে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য উভয়ভাবেই ত্রিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছে বেইজিং।

এদিকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা আবুধাবিতে নতুন কোনো কাঠামোর অধীনে অন্তত সীমাবদ্ধতাগুলো মেনে চলা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। 

সূত্র: সিএনএন

এমএইচআর