আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
প্রায় দুই দশক ধরে আলোচনার পরে ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য শুরু হবে। এতে প্রশ্ন উঠেছে এই চুক্তির ফলে ভারত কি ইইউ-র বস্ত্রশিল্পের বাজারে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দেবে?
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্টা দাবি করেছেন, এই চুক্তি ঐতিহাসিক। এত বড় আকারে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আগে কখনো হয়নি। এই চুক্তির ফলে ভারত যেমন লাভবান হবে, তেমনই ইইউ-ও সমানভাবে লাভবান হবে।
এদিকে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছেন, ‘এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে শুধুমাত্র বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রেই ভারতের বিপুল সুবিধা হবে এবং ৭০ লাখ কর্মসংস্থান হবে।’
তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে ইইউ-তে বস্ত্রশিল্প রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক নম্বরে আছে। তারা এই ক্ষেত্রে বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করে। বাংলাদেশ লিস্ট ডেভলাপ দেশ বলে তাদের কোনো শুল্ক দিতে হয় না।’
বাণিজ্যমন্ত্রী গোয়েল আরও বলেছেন, ‘ভারতীয় বস্ত্র ও পোশাকের ক্ষেত্রে ইইউ’তে ১২ শতাংশ শুল্ক ছিল এবং এই খাতে ভারতের বর্তমানে বাণিজ্যের পরিমাণ হলো ৭ বিলিয়ন ডলার। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে ভারতকে আর কোনো শুল্ক দিতে হবে না। ফলে এফটিএ চালু হওয়ার পর ভারতীয় বস্ত্র ও পোশাক রফতানি ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।’
এদিকে ইইউ বস্ত্র, তৈরি পোশাক ছাড়াও ভারতীয় চামড়া ও চামড়াজাত পন্য, জুতা, সামুদ্রিক পণ্য, অলংকার ও দামি পাথর, হস্তশিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অটোমোবাইল পার্টসের ওপর থেকেশুল্ক প্রত্যাহার অথবা খুবই কম শুল্ক নির্ধারণ করেবে বলে আশা করছে দেশটির কর্মকর্তারা।
ভারতীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছেন, ‘ইইউ এখন বছরে সাড়ে ছয় ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে। পরিষেবার ক্ষেত্রে তারা তিন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে। ইইউ-র সঙ্গে এফটিএ ভারতের সামনে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ভারতের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ওপর ইইউ’র শুল্ক ১৭ শতাংশ থেকে কমে শূন্য হবে। ফলে ইইউ’র ১০০ বিলিয়ন ডলারের চামড়ার বাজারে ভারত ভালো করে ঢুকতে পারবে।’
ভারতের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ এবং বণিকসভা ফিকির সাবেক আর্থিক পরামর্শদাতা অঞ্জন রায় বলেছেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারত এবং ইইউ দুই পক্ষই সুবিধা পাবে। ভারতে যে সব শিল্পে প্রচুর মানুষ কাজ করেন, সেই বস্ত্রশিল্প, চামড়া শিল্প, আইটি, টেকনলজি সেক্টরের সুবিধা পাবে। বস্ত্র ও পোশাকের ক্ষেত্রে দুই বছরের মধ্যে রফতানি অনেকটাই বাড়বে।’
সূত্র: ডয়চে ভেলে
এমএইচআর