আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনা হামলা একটি ভুল সিদ্ধন্ত হবে বলে সতর্ক করছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। একই সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ওয়াশিংটন এবং তেহরানকে কূটনীতির মাধ্যমে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী মোতায়েনের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আবার যুদ্ধ শুরু করা হবে ভুল একটি সিদ্ধান্ত।’
দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাকবিতণ্ডা সত্ত্বেও একটি কূটনৈতিক সমাধান অর্জনযোগ্য উল্লেখ করে ফিদান জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরান আবারও পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা করতে প্রস্তুত।’
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে তুরস্কের এই শীর্ষ কূটনীতিক আরও বলেন, ‘আমেরিকান বন্ধুদের কাছে আমার পরামর্শ, ইরানের সঙ্গে বিরোধগুলো একে একে মিটিয়ে নিন। পারমাণবিক দিয়ে শুরু করুন, এটি বন্ধ করুন, তারপর অন্যগুলো। যদি আপনারা একসঙ্গে সব ইস্যু সমাধনি করতে চান, তাহলে আমাদের ইরানি বন্ধুদের পক্ষে এটি হজম করা খুব কঠিন হবে। কখনও কখনও, এটি তাদের কাছে অপমানজনক বলে মনে হতে পারে।’
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইরান আঞ্চলিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করতে পারে, তবে তাদের আগে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আস্থা তৈরি করতে হবে। তাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত যে আঞ্চলিক দেশগুলি তাদের কীভাবে দেখছে।’
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বিশাল সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যেই ইরানের আরও কাছে পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ।
মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মার্কিন বিমান বাহিনী মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বহু-দিনের প্রস্তুতি মহড়া পরিচালনা করবে, যাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এলাকা জুড়ে যুদ্ধ বিমান মোতায়েন, শত্রু বিমান বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের টিকে থাকার ক্ষমতা পরীক্ষা করা যায়। বেশ কিছুদিন এই মহড়া চলবে।’
এরআগে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনার মধ্যেই একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই ইরান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের লক্ষ্য করে দেশটিতে ব্যাপক হামালার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জন্য প্রয়োজনীয় সামারিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের সরবরাহ বাড়িয়েছে মার্কিন বাহিনী। এতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন
মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তা বলেছেন, এ সপ্তাহে শেষের দিকেই হামলা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে সেই সময় পরিবর্তনও হতে পারে।
তিনি আরও জানান, ‘ইরানে হামলা চালালে দেশটির পাল্টা প্রতিক্রিয়া কেমন হবে- তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছে, তবে এ নিয়ে প্রশাসনের অভ্যন্তরে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।’
অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। এরপরই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দিয়েছে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড এবং জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না বলে ঘোষণা দেয়।
সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু
এমএইচআর