আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
মিয়ানমারের রাখাইনে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলার বিরুদ্ধে দেশটির ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বৃহত্তম শহর ও প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ইয়াঙ্গুনের এ সমাবেশে কয়েকশ’ মানুষ অংশ নেন। শহরের কেন্দ্রস্থলে জাতীয়তাবাদী কর্মী এবং গেরুয়া পোশাক পরা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ছোট আকারের জাতীয় পতাকা এবং রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে অভিযান পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করা ব্যানার নিয়ে ঢোলের তালে তালে নাচতে দেখা যায়।
উগ্র-জাতীয়তাবাদী কর্মী উইন কো কো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা আজ আমাদের দেশের মর্যাদা, আমাদের দেশের সত্য এবং আমাদের দেশের ন্যায়বিচারের জন্য এখানে জড়ো হয়েছি।’’ তার দাবি, ‘‘মিয়ানমার এমন এক ভূমি, যেখানে প্রেমময় দয়া বিকশিত হয়। এখানে গণহত্যা বলে কিছু নেই।’
মিয়ানমার শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের বংশধর এবং ২০১৭ সালের অভিযান চালানো হয়েছিল জঙ্গিদের বিদ্রোহ রুখতে।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের চালানো সেই অভিযানের সময় প্রাণ বাঁচাতে দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত আইসিজে-তে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের মামলার শুনানি শুরু হয় গত ১২ জানুয়ারি। শুনানিতে গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমারের প্রতিনিধি ও দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কো কো হ্লাইং বলেছেন, ‘গাম্বিয়া প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই মামলার রায় হবে প্রমাণিত তথ্যের ভিত্তিতে, অপ্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে নয়।’
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানের ফলে কমপক্ষে ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাড়ি-ঘর ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। অভিযানের সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হত্যা, গণধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে – এমন তথ্য উঠে আসে জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদনে। সেই সামরিক অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
এদিকে আইসিজে-তে কো কো হ্লাইং বলেন, ২০১৭ সালের সামরিক অভিযান ছিল বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, এটি কোনো গণহত্যা ছিল না।
তিনি আরও দাবি করেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদন বস্তুনিষ্ঠ বা নির্ভরযোগ্য ছিল না।
অন্যদিকে আদালতে গাম্বিয়ার আইনজীবীরা বলেন, ‘মিয়ানমারের হাজার হাজার বেসামরিক রোহিঙ্গার ওপর আক্রমণ এবং তাদের গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া কেবল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই ছিল- বিচারকদের এমন সিদ্ধান্তে আসা যুক্তিসঙ্গত হবে না।’
শুনানিতে কো কো হ্লাইং আরও জানান, ‘মিয়ানমার সরকার ২০১৭ সাল থেকেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা ও পুনর্বাসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কোভিড-১৯ মহামারি, ঘূর্ণিঝড় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই উদ্যোগ ব্যাহত হয়েছে। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে আমাদের উদ্দেশ্য এই জনগোষ্ঠীকে নির্মূল বা জোরপূর্বক বিতাড়িত করা নয়।’
আগামী আইসিজে-তে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) শুনানি শেষ হওয়ার কথা।
সূত্র: ডয়চে ভেলে
এমএইচআর