আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
দুই দশক ধরে আলোচনার পর ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিপি) চূড়ান্ত করলো ভারত এবং ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এটি বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশকে অন্তর্ভুক্ত করবে বলে দাবি করেছে উভয় পক্ষ।
মঙ্গলবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি ঘোষণা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তেনিও কস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেইয়েন।
চুক্তি পর প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘আজ একটা ঐতিহাসিক দিন, ভারত-ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। সমাজের সব অংশের লাভ পৌঁছাবে এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আমরা সম্পন্ন করেছি। এটা একটা ঐতিহাসিক সমঝোতা। এতে ভারতীয় কৃষি, শিল্প দ্রব্য ইউরোপে আরও সহজভাবে ঢুকবে। ভারত ও ইইউ-র মধ্যে বিনিয়োগ বাড়়াবে, নতুন উদ্ভাবন হবে, দ্বিপাক্ষীক সম্পর্ক এবং সাপ্লাই চেন মজবুত হবে।’
Today is a day that will be remembered forever, marked indelibly in our shared history.
— Narendra Modi (@narendramodi) January 27, 2026
European Council President António Costa and European Commission President Ursula von der Leyen and I are delighted to announce the conclusion of the historic India-EU Free Trade Agreement.… pic.twitter.com/yaSlPm2b2L
এই চুক্তির ফলে ইইউতে বসবাসকারী আনুমানিক আট লাখ ভারতীয় ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন উল্লেখ করে তিনি আর বলেছেন, ‘এটা শুধু বাণিজ্য চুক্তি নয়, তার থেকে অনেক বেশি। ভারতের শিক্ষার্থীরা, শ্রমিকরা ইউরোপে যেতে পারবেন। প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষাতেও অংশীদারিত্ব। কাউন্টার টেররিজমে ভাগীদারি বাড়বে। ইন্দো-প্যাসিফিকে সহযোগিতা বাড়বে। দুই দেশের সংস্থা একসঙ্গে কাজ করবে। ভারত ও ইইউ-র সম্পর্কে নতুন যুগ শুরু হলো।’
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোলিয়া কস্টা বলেন, ‘আমরা ঐতিহাসিক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি। ভারত ও ইইউ-র মানুষের মধ্যে সম্পর্কের নিরিখে একটা ঐতিহাসিক সময়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তিনটি মেসেজ পৌঁছে দিতে চাই। আমরা দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করব। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সবচেয়ে বড় চুক্তি। আমাদের নিজেদের স্বার্থে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তাই নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিয়ে চুক্তি হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র ইইউ ও ভারত জাতিসংঘের চার্টার নিয়ে এগোবে। একসঙ্গে আমরা আবিশ্ব ইস্যুর নেতৃত্ব দেব।’
ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইয়েন বলেন, ‘যখন ভারত সফল হয়, তখন বিশ্বের সবাই উপকৃত হয়, তার সুফল পায়। আমরা এই চুক্তি করতে পেরেছি। মাদার অফ অল ডিলস হয়েছে। এটা হলো আ টেল অফ টু জায়েন্টস, যাতে দুই পক্ষই উইন উই পরিস্থিতিতে থাকবে। ভারতের দক্ষতা ও পরিষেবা আসবে। তার সঙ্গে যুক্ত হবে ইউরোপের প্রযুক্তি। কৌশলগত সহযোগিতা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু বাণিজ্য বাড়াচ্ছি তাই নয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। ইন্ডিয়া ইইউ হাব হবে। একসঙ্গে গবেষণার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হবে। শিক্ষাথী, দক্ষ শ্রমিক, গবেষদের জন্য ইইউ হাব করা হবে দিল্লিতে।’
প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও ইইউসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর বিপুল পরিমাণ শুল্ক বসানোর পর ভারত এবং ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা আলোচনা শেষপর্যন্ত সফল হলো। তবে ইইউ পার্লামেন্ট এই চুক্তি অনুমোদন করতে হবে। তারপর ইইউর ২৭টি দেশ তাদের পার্লামেন্টে এই চুক্তি অনুমোদন করবে। তার জন্য বছরখানেক সময় লাগবে।
সূত্র: এনডিটিভি, ডয়েচে ভেলে
এমএইচআর