আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
৫৯ বছর বয়সে সন্তানের জন্ম দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হইচই ফেলে দিয়েছেন এক চীনা নারী। এটি তার দ্বিতীয় সন্তান। এর আগে তার একটি মেয়ে রয়েছে।
ঝোউ নামের ওই নারী জানান, তার প্রথম সন্তান মেয়ে। মেয়ে বড় হয়ে বিদেশে চলে যাওয়ায় তিনি ও তার স্বামী খুব ‘একাকী’ অনুভব করছিলেন।খবর সাউথ মর্নিং চায়না পোস্টের।
একাকিত্ব কাটাতে এ দম্পতি দুবছর আগে আরও একটি সন্তান নেওয়া পরিকল্পনা করেন। গর্ভধারণের জন্য ঝোউ নিজের স্বাস্থ্য ঠিক করা এবং শরীরকে প্রস্তুত করা শুরু করেন। সুষম খাদ্যগ্রহণ ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি তিনি ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন।
এ দম্পতির বয়স অনেক বেশি হওয়ায় তাদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গর্ভধারণের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য ছিল, গর্ভধারণে ঝুঁকিও ছিল অনেক বেশি। কিন্তু তারা আশা ছাড়েননি।
আইভিএফ পদ্ধতিতে গর্ভধারণের জন্য এ দম্পতি চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন এবং কয়েক মাসের চিকিৎসায় সফলভাবে গর্ভধারণে সক্ষম হন।
ঝোউ বলেন, গর্ভধারণের পর চিকিৎসকেরা তার বিশেষ যত্ন নিতেন। এই নারী বলেন, ‘চিকিৎসকেরা নিয়মিত আমাকে বার্তা পাঠাতেন, আমার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর রাখতেন। আমার নিজেকে পান্ডা মনে হতো, চিকিৎসকেরা যাকে যত্নসহকারে রক্ষা করছেন।’
ঝোউকে গর্ভকালীন নানা শারীরিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তার রক্তচাপ অনেক বেড়ে গিয়েছিল, কিডনিতেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল, পা অনেক ফুলে যেত। তার আরও বেশ কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছিল।
তাই গর্ভধারণের প্রায় ৩৩ সপ্তাহ পর চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। ৯ জানুয়ারি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ঝোউ ২ দশমিক ২ কেজি ওজনের একটি ছেলেশিশুর জন্ম দেন।
ঝোউয়ের চিকিৎসক গুও বলেন, তিনি একজন সাহসী মা, যিনি এই ভয়ংকর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। এই প্রতিবেদনে ঝোউয়ের স্বামী বা তার মেয়ে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এর আগে ৬২ বছর বয়সে আরেক চীনা নারী গর্ভধারণ করেছেন বলে খবর পাওয়া যায়। তিনি অনাগত সন্তানকে তার মৃত একমাত্র ছেলের পুনর্জন্ম হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দাহে নিউজের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে হংকংয়ের ইংরেজি দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
ঘটনাটি উত্তর-পূর্ব চীনের জিলিন প্রদেশের সংইউয়ানের। মূল ভূখণ্ডের একটি শীর্ষস্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নারীর ছোট বোন নিয়মিত তার অন্তঃসত্ত্বা বড় বোনের জীবনের হালনাগাদ তথ্য শেয়ার করছেন। এই হবু মা জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো গর্ভবতী হয়েছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি তার একমাত্র ছেলেকে হারান। তবে ছেলের বয়স কত ছিল বা কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু জানানো হয়নি।
গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ওই নারী ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ভধারণ করেন। প্রতিবেদনে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ডিসেম্বরের শেষে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওই নারীকে ক্যামেরার সামনে বেশ ফুরফুরে মেজাজে বলতে শোনা যায়, ‘আমার মনে হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাচ্চা পৃথিবীতে চলে আসবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সন্তান পেটে বেশ লাথি মারে। আমি দেখেছি যখনই মিষ্টিজাতীয় খাবার খাই, সে আরও বেশি নড়াচড়া শুরু করে।’
-এমএমএস